জার্নি বাই ট্রেন, সিলেট টু কুমিল্লা ইন পাহাড়িকা!
লাইনটা যেহেতু ছোট সেহেতু দেরি করা বোকামি, যেই ভাবা সেই কাজ ! সম্মুখ ভাগে মাত্র তিনজন, তিনজন শেষেই আমার পালা! জিজ্ঞাসা করলাম, আগামি কালকের কুমিল্লার এ্কটা টিকেট হবে?
২৭ তারিখ?
জ্বী!
সকালে?
জ্বী!
সকালের ১০:১৫ মিনিটে, তাপানুকুল না নরমাল?
তাপানুকুল হলেই ভালো!
দুটো টিকেট আছে ! আপনার কয়টা লাগবে?
একটা! সঙ্গে সঙ্গে মনিটরে তাকিয়ে পাঁচশত টাকার একটা নোট দিলাম এবং বললাম, ভাই জানালার পাশেরটা দিয়েন!
তিনি জানতে চাইলেন ১০ টাকা আছে?
জ্বী, আছে বলে সঙ্গে সঙ্গে ১০ টাকার একটা নোট দিলাম! ওনি ও সঙ্গে সঙ্গে আমাকে ৫০ টাকার একটা নোট ও টিকেটটা দিলেন!
টিকেটটার দাম ৪৫৫ টাকা তিনি রাখলেন ৪৬০ টাকা ! আল-হাম-দু-রিল্লা ! তিনিতো ৫০০ টাকা পুরোটাই রাখতে পারতেন কিন্তু তিনি রাখলেন মাএ ৪৬০ টাকা ! আমি খুব খুঁশি, ট্রেনের টিকেট পেয়েছি তাও আবার তাপানুকুল!
যথারীতি পরের দিন সকাল ৯:৪৫ মিঃ ট্রেন ইস্টিশনে এসে হাজির! সিটটি জানালার পাশে দিছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য একটু আগেই বগিতে ওঠে পড়লাম! ওঠেই বিড় বিড় করে বললাম, একি এতো দুরগন্ধ কেন ? সিটে বসা ভদ্র মাহিলা ও ভদ্র লোকদের দেখলাম নাঁক-মুখে কেই কাপড় আবার কেউ রুমাল দিয়ে বসে আছে! বিড় বিড় করে আবার বললাম, বন্ধ ছিলো বলে এতো গন্ধ ! কোন রকমে মানুষজন ঠেলে নিজের সিটের কাছে হাজির হলাম এবং দেখতে পেলাম সিটটি জানালার পাশেই, মনে মনে তাকে ধন্যবাদ দিলাম ! গন্ধ সহ্য করতে না পেরে আবার মানুষজন ঠেলে বগি থেকে বের হয়ে পড়লাম! ট্রেন ছাড়ার একটু আগে লাঁফিয়ে আবার ট্রেনে চড়লাম!
ওঠেই গন্ধটা আবার ও অনুভব করলাম, তবে পরিমানে আগের ছেয়ে একটু কম! সিটে বসা ভদ্র মাহিলা ও ভদ্র লোকদের দিকে আবার তাঁকালাম এবার আর কাপড় বা রুমাল দেখতে পেলাম না! মনে হয় গন্ধটা তাদের সহ্য হয়ে গিয়েছে ! মানুষজন ঠেলে যখন জানালার পাশে নিজের সিটে আরাম করে বসতে গেলাম, ঠিক তখনই দেখতে পেলাম জানালার গ্লাসে এবং পর্দায় ছোট ছোট তেলা পোঁকা ও অন্য রকমের কয়েকটা পোঁকা মনের সুখে হাটছে! পর্দাটা ধরে নাঁড়া দিয়ে পোঁকা গুলো নিচে ফেলেদিলাম এবং নিচে খুঁজতে লাগলাম, উদ্দেশ্য পা দিয়ে মেরে ফেলা, এবার আর খুঁজে পেলাম না! কি আর করা বাধ্য হয়ে সিটটায় বসে পড়লাম এবং একটা পএিকা কিনে পড়তে লাগলাম কিন্তু আমি পোঁকা গুলোর কথা ভুলতে পারলাম না, মনে হচ্ছে পোঁকা গুলো আমার গাঁয়ে হাঁটছে!
ট্রেনটা ছাড়লো কিন্তু লক্ষ্য করলাম আমার পাশের সিটটা খালি, যেই না ভাবলাম পাশের সিটটাই বসবো ঠিক তখনই ট্রেনের একজন স্টাফ এসে বসে পড়লো ! ময়লা সাদা সাট-প্যান্ট মুখে কাঁচা-ফাঁকা গোটা , গন্ধের পরিমানটা ও মনে হয় বাড়লো! বমি বমি ভাব আসলো! দ্রুত পএিকায় মনোনিবেশ করলাম! একি তার হাত এবং গা দেখি আমার হাত এবং গায়ের সঙ্গে বার বার লেগে যাচ্ছে, যদি ও আমি একটু দুরে থাকার চেষ্টা করছি!
ট্রেনটা থামলো, লোকটা উঠে চলে গেল এবং একজন ভদ্র লোক এসে পাশে বসলো, তার কাছ থেকে জানতে পারলাম ট্রেনটা এখন কুলাউড়া স্টিশনে! বেশ কিছুক্ষন অপেক্ষার পর ট্রেন আবার ছাড়লো। হঠাৎ ভ্যবসা গরম অনুভব হলো, যদি ও মাথার উপর ফেন ঘুড়ছে, এসিও চলার কথা! একজন ভদ্র মহিলাকে দেখলাম একজন স্টাফের সঙ্গে চিৎকার করছে এবং বার বার জানতে যাচ্ছে, এসি চলছে না কেন? সমোস্বরে আরো কয়েকজন ভদ্রলোক কে ও চিৎকার করতে দেখলাম! ট্রেন চলছে আর সবাই গরমে অস্হির হয়ে ওঠছে!
যে সকল সুন্দরী যাত্রীরা নিজের সৌন্দয্য বৃদ্ধির জন্য মেকাপ ব্যবহার করেছেন তারা সকলে গরমে এবং ঘামে ভুতের রূপ পরিগ্রহ করেছেন! তাপঅনুকুল অবস্থার চিন্তা করে মনে হয় তারা মেকাপটা একটু বেশিই ব্যবহার করেছেন! তারা পরষ্পর পরস্পরকে নিয়ে হাঁসি-মশকরা করছেন! অতঃপর তারা দলবদ্ধ ভাবে টয়লেটে গিয়ে প্রকৃত রূপে ফিরে আসছেন! ছোট ছোট বাচচা গুলোর অবস্থা করুন, তারা অনবরত কাঁদছে! বাবা-মার চোখে মুখে অস্থিরতা!
অসহ্য যন্ত্রনা, গরম ও ক্লান্তি নিয়ে অবশেষে ৫ঃ১৫মিঃ কুমিল্লা এসে পৌছলাম ! নামার সময় হঠাৎ জানালার পর্দায় একটা লেখা দেখতে পেলাম! লেখাটা ছিল, 'আপনার আ্স্থাই, আমাদের অনুপ্রেরনা' – বাংলাদেশ রেলওয়ে!
