১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যা: ট্রাইব্যুনালে হাবিব হাসানসহ ২৬ জনের বিচার শুরুর আদেশ

সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য জন্য আগামী ৪ নভেম্বর দিন রাখা হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 11 Oct 2026, 03:50 PM

Updated : 11 Oct 2026, 03:50 PM

জুলাই আন্দোলনে নিহত মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় করা ‘মানবতাবিরোধী’ অপরাধের মামলায় ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক এমপি মোহাম্মদ হাবিব হাসানসহ ২৬ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রোববার অভিযোগ গঠন করে এ আদেশ দেয়।

বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য জন্য আগামী ৪ নভেম্বর দিন রাখা হয়েছে।

শুনানিতে ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহ, মঈনুল করিম ও সহিদুল ইসলাম সরদার উপস্থিত ছিলেন।

আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সুলতান মাহমুদ, আবুল হাসানসহ রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা।

রোববার সকালে গ্রেপ্তার আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

তাদের উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান অভিযোগ দুটি পড়ে শোনান। পরে কাঠগড়ায় থাকা আসামিদের কাছে তারা দোষী নাকি নির্দোষ, তা জানতে চাওয়া হলে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন তারা।

মামলায় অভিযুক্ত ২৬ আসামির আটজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন— ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. শাহ আলম এবং তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী।

মামলার বাকি ১৮ আসামি পলাতক। এ তালিকায় আছেন ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, উত্তরা বিভাগের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহমুদুল হাসান, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক কনস্টেবল মো. আবু ছায়েম, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক এসআই খালেদ আনোয়ার, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক এএসআই মো. রোকনুজ্জামান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে যুবরাজ, সাবেক কাউন্সিলর মো. ফরিদ আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর ডিএম শামীম, সাবেক কাউন্সিলর মো. আনিছুর রহমান নাঈম, সাবেক কাউন্সিলর মো. আফছার উদ্দিন খান, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন আল সোহেল, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুরতাফা বিন ওমর ওরফে সাথিল এবং তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন ওরফে মিঠু।

এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ এনেছে।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৮ জুলাই উত্তরায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে ‘নির্বিচারে গুলি চালানো হয়’। উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে আহতদের হাসপাতালে নিতে সহযোগিতা এবং ছাত্র-জনতার মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এমবিএ শিক্ষার্থী মীর মুগ্ধ।

“একই দিন উত্তরায় জাহিদুজ্জামান তানভীন, শেখ ফাহমিন জাফর, মো. শাকিল হোসেন, মো. সাব্বির হোসেন ও সজিব সরকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া পুলিশের একটি এপিসির পেছনের চাকায় পিষ্ট করে উবারচালক মোখলেছুর রহমান ওরফে দুর্জয়কে হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে তুরাগ নদে ফেলে দেওয়া এবং মেহেদী হাসানসহ পাঁচজনকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ আনা হয়েছে এই অংশে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই একই এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর আবারও নির্বিচারে গুলি চালিয়ে রিদোয়ান শরীফ ওরফে রিয়াদ জয়, মো. ছাব্বির ইসলাম, মো. আসাদুল্লাহ ও নাঈমা সুলতানাকে হত্যা করা হয়। এছাড়া রাইসুল রহমান রাতুলকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ রয়েছে।

প্রসিকিউশন দুটি অভিযোগেই এসব ঘটনাকে পরিকল্পিত, ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে।