২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বালু দিয়ে নদী ভরাট: প্রাণ-আরএফএলের দুই কর্মকর্তাসহ চারজনের কারাদণ্ড

বালু নদীর তীরভূমি ও নদীগর্ভের প্রায় সাড়ে ১২ হাজার বর্গফুট এলাকা ভরাট করার দায়ে এই সাজা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 23 Sep 2026, 05:36 PM

Updated : 23 Sep 2026, 05:36 PM

বালু দিয়ে নদী ভরাটের অভিযোগে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের দুই ম্যানেজারসহ চারজনকে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

এর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ম্যানেজার (অ্যাডমিন) মো. ফয়সাল মাহমুদ ও সরওয়ার জাহানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আর বালু বহনের কাজে যুক্ত ‘মদিনার পথ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মুক্তার হোসেন ও নাজমুল আলম নাহিদকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি বুধবার এ রায় দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবু আব্দুল্লাহ জানান, 'ফয়সাল মাহমুদ ও সরওয়ার জাহানকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আর মুক্তার হোসেন ও নাজমুল আলমকে কারাদণ্ডের সঙ্গে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। জামিন বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ।

মামলার নথিতে বলা হয়, ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী দখল ও দূষণ বন্ধ এবং নদীগুলো রক্ষায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো বিভিন্ন সময়ে নদী দখলমুক্ত করতে অভিযান চালিয়ে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর টঙ্গী নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন খিলক্ষেত থানার পাতিরা মৌজায় বালু নদ পরিদর্শনে যায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও পুলিশের কর্মকর্তারা।

সেখানে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মাধ্যমে বালু নদীর তীরভূমি ও নদীগর্ভের প্রায় সাড়ে ১২ হাজার বর্গফুট এলাকা ভরাটের তথ্য পাওয়া যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ভরাটের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার কথাও মামলায় বলা হয়।

এ ঘটনায় টঙ্গী নদীবন্দরের তৎকালীন সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম ওইদিনই খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন।

তদন্তের পর খিলক্ষেত থানার এসআই সোহরাব হোসেন ২০২২ সালের ৩১ মে চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

২০২৩ সালের ১৬ অগাস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে মামলার আটজন সাক্ষীর মধ্যে তিনজনের সাক্ষ্য শুনে বিচারক বুধবার রায় ঘোষণা করলেন।