প্রযুক্তির উৎপাদক ও রপ্তানিকারক হতে হবে বাংলাদেশকে: বিজ্ঞানমন্ত্রী
পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম ডিজিটাল অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্য রয়েছে, বলেন তিনি।
বিদেশি প্রযুক্তির ভোক্তা হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে নিজস্ব উদ্ভাবন ও গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রযুক্তির উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করার ওপর জোর দিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
শনিবার রাজধানীর বাড্ডায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বক্তব্য রাখছিলেন বলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
‘বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’ এর এই আয়োজনে জমা পড়া ৩৫৫টি প্রকল্পের মধ্যে ৪৪টি তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্ক (বিআইআইএন)। এর মধ্যে নয়টি চ্যাম্পিয়ন, ১০টি উইনার এবং ২৫টি মেরিট পুরস্কার পেয়েছে।
শিল্প, শিক্ষা, ব্যাংকিং, সরকারি প্রশাসন ও স্টার্টআপ খাতের ৪০ জন বিচারক দুই দিন ধরে প্রকল্পগুলো মূল্যায়ন করেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, সফটওয়্যার, ডেটা সেন্টার ও ডিজিটাল সেবায় বিশ্বে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম ডিজিটাল অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্য রয়েছে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে বিচ্ছিন্নভাবে উদ্ভাবনী আয়োজন বা গবেষণা যথেষ্ট নয় মন্তব্য করে তিনি সরকার, ব্যবসায়িক খাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন-বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী।
বিআইআইএনের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলমাস কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী ও বিআইআইএনের নির্বাহী পরিচালক রুবাবা দৌলা মতিন।
চ্যাম্পিয়ন হওয়া নয়টি উদ্ভাবনের মধ্যে প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে রয়েছে সক্রিও টেকনোলজিস লিমিটেডের ‘সক্রিও ডিএমএস’, টেটন প্রাইভেট লিমিটেডের ‘মাইইসিজিএআই’ এবং গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেডের ‘দ্য সুখী ওয়ে: কানেক্টেড কেয়ার থ্রু ইন্টিগ্রেটেড ডিজিটাল সার্ভিসেস’।
শিক্ষার্থী ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের ‘এজেন্টআইএএম’, ইউল্যাবের ‘ক্রনিক’, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-চুয়েটের ‘সিঙ্ক ভি-১: ব্রেইল এমবসার’, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আরবর’ এবং বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ পাবলিক কলেজের ‘ব্রেইলব্রিজ’। ব্যক্তিগত বা দলীয় ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘বিন্দো’।
চ্যাম্পিয়ন ও উইনার উদ্ভাবনগুলো এশিয়া প্যাসিফিক আইসিটি অ্যালায়েন্স (অ্যাপিকটা) অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য মনোনয়ন পাবে।
