দাফনে বাধার পরিণতি তারা ভোগ করবে: উপদেষ্টা জাহেদ
“আমি দেখেছি, আমি জানি, আমি বুঝি—এটা আসলে কেউ সঠিকভাবে নেয়নি।”
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে দাফনে বাধা দেওয়ার পরিণতি দলটিকে ভোগ করতে হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ের পিআইডি সম্মেলনকক্ষে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, “মুক্তিযোদ্ধার বিষয়টা…আমাদের সামনে যে তথ্য সামনে আসলো, সেটা খুবই আসলে দুঃখজনক যে পলিটিকাল পার্টি এটার সাথে ইনভলভ হয়ে এই কাজগুলো করেছে। আমি নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি এটার কনসেকুয়েন্স তারা ফিল করবে। কারণ আমি দেখেছি, আমি জানি, আমি বুঝি—এটা আসলে কেউ সঠিকভাবে নেয়নি।
“কারণ এই প্রবণতা যখন আগেও হয়েছে, এই প্রবণতা কিন্তু আগেও হয়েছে উল্টো দিক থেকে। সেটাও আসলে তখন ধরুন—যখন কিছু মানুষের বিচার হলো, তারপর তাদের ডেড বডি এবং কবরের উপর এই ধরনের আচরণ করা হয়েছিল; তখন যারা এই বিচারগুলোর পক্ষেও ছিলেন— কিন্তু ডেড বডির উপরে, ডেড বডির সাথে এই আচরণগুলো আসলে কেউ পছন্দ করেননি।”
গত শনিবার পিরোজপুরে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো এবং দাফনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বাধা দেন বলে অভিযোগ তোলেন স্বজনরা।
পরে পিরোজপুর জেলা পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকাল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিরাপত্তায় মরদেহ ঘিরে রাখা হয়। এরপর রাত ২টায় পুলিশ পাহারায় নিজ গ্রামে পশারীকে দাফন করা হয়। তবে বাধার কারণে প্রয়াতের নারী স্বজনদের কবর খুঁড়তে বাধ্য হন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, “একটা মানুষ যখন মারা যান, তখন আসলে তিনি এই অধিকার রাখেন, তিনি মারা গেছেন এবং তার বিচার পরবর্তীতে সৃষ্টিকর্তার কাছে হবে।
“সো এইখানে যারা এই কাজগুলো করেন, তারা আসলে সমাজে আলটিমেটলি, আলটিমেটলি তারা এখানে নিগৃহীত হবেন, সমাজে তারা তাদের প্রশংসা বা কোনভাবেই এটাকে সমর্থনও পাবেন না।”
সাম্প্রদায়িক হামলাকারীদের সরকার কোনো ছাড় দেবে না জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেছেন, “কেউ বিচারের বাইরে থাকবে না।”
এক সাংবাদিক বলেন, রংপুরের পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীরা তিনটি হিন্দু পরিবারের দোকান ও বাড়িঘরে লুটপাট করেছে। রাষ্ট্র যখন সম্প্রীতি ফেরানোর চেষ্টা করছিল, সেই মুহূর্তে এভাবে তিনটি হিন্দু পরিবারের ওপর লুটপাট-হামলায় স্থানীয়রা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
জবাবে উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, “আমি (রংপুরের ঘটনা) মিস করেছি কিন্তু আমি আপনাকে এটুকু বলছি যে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে এবং আমরা বারবার একটা কথা বলছি বাংলাদেশে এ ধরনের উগ্রপন্থি কিছু মানুষের আস্ফালনের প্রবণতা আছে, তারা- ইন্টারিমের সময়ে এটা বেড়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা এটার প্রতি কগনিজেন্স (গুরুত্ব) দেননি; আমরা এই কথাটাই বলতে চাইছি যে—এটার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
“দু-চারটা ঘটনা যে এরপরে ঘটে যাবে না...একটা বড় দেশ এবং এই ধরনের এলিমেন্ট যেহেতু আছে, কিন্তু আমি আপনাকে আগেরও দুটো ঘটনা ধরে দেখিয়েছি যে—প্রচুর চাপের পরও সরকার গ্রেপ্তার করেছে।
“একজন মানুষকে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় যিনি মানুষজনকে ডেকেছেন, মব তৈরি করেছেন—তার পক্ষে দাঁড়িয়েও বেশ কিছু মানুষজন কথা বলেছেন; কিন্তু সরকার তার দায়িত্ব থেকে পিছপা হয়নি, সরকার তাকে গ্রেপ্তার করেছে।”
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশে কোথাও এটা এমন পর্যায়ে যায়নি যে সরকার এটাকে কগনিজেন্সে নিচ্ছে না। টঙ্গীতে যে ঘটনাটা ঘটেছে, সেখানেও যিনি অভিযুক্ত তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মানে সরকার তার যে কাজ আছে, সেই কাজটা করে যাচ্ছে এবং এই কাজটা যদি কন্টিনিয়াসলি সরকার করে যায়, সেটা আল্টিমেটলি এই প্রবণতাগুলোকে কমিয়ে আনবে।
“সাতক্ষীরাতে একজন মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, যিনি এটার ব্যাপারে সামনে এসে মিডিয়ার সামনে এসে উস্কানি দিয়েছেন, কথা বলেছেন; তাকেও সরকার গ্রেপ্তার করেছে। তার মানে একটা সরকার যদি এই বার্তা দেয় যে, এই ধরনের কাজ রাষ্ট্রের আইন ভঙ্গ করে কেউ করতে পারবে না, এটা কমে আসবে। এটা খুব বেশি সামনে আর থাকবে না।”
