প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের নেতার সাক্ষাৎ
“এসব বৈঠকে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদার, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক নানা ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে,” বলেন হুমায়ুন কবির।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি চার কর্ম দিবসে তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তানসহ আটটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ নেতারা হলেন—তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচ, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করেন কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ এবং সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমের স্টেনেরগার্ড।
এছাড়া সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট জেইদ রা’আদ আল হুসেইন ও গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যান।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল।
৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলে আছেন সরকারপ্রধানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিমানমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেয়ার পাশপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সাথে বৈঠক করেছেন।
“এসব বৈঠকে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদার, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক নানা ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।”
এসব বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে আলোচনা ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ছাড়াও রোহিঙ্গা সংকট, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
জিপি মরগ্যান আয়োজিত ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং বাণিজ্য-আর্থিক খাত নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অংশ নেওয়া সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত নৈশভোজ এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রাতভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।
