‘সাংবাদিক আতাউস সামাদ কোনো চাপে অবস্থান বদলাননি’
“সাংবাদিকতায় এমন স্বাধীনচেতা মানুষের থাকা অত্যন্ত জরুরি,” বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
একুশে পদক পাওয়া সাংবাদিক আতাউস সামাদ মননে নরম স্বভাবের হলেও চাপের মুখে নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন বলে মনে করেন তার সঙ্গী ও সহকর্মীরা।
আতাউস সামাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আলোচনাসভায় তার জীবন ও কর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণ করে একথা বলেন পরিচিতজনরা।
আতাউস সামাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি আতাউস সামাদের ভক্ত ছিলেন। বিভিন্ন বিষয়ে তার পরামর্শ নিতেন। রাজনৈতিক জীবনেও আতাউস সামাদ নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন।
তিনি বলেন, “আতাউস সামাদ খুব নরম স্বভাবের হলেও নিজের সিদ্ধান্তে ছিলেন দৃঢ়। কোনো ধরনের চাপ তাকে তার অবস্থান থেকে সরাতে পারেনি। সাংবাদিকতায় এমন স্বাধীনচেতা মানুষের থাকা অত্যন্ত জরুরি।”
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও আতাউস সামাদের ছাত্র সাংবাদিক শওকত মাহমুদ বলেন, “আমরা দেশে বহু রাজনীতিবিদ দেখেছি- শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া। কেউ এতটুকু সাহস করতে পারেন নাই সাংবাদিক আতাউস সামাদকে দিয়ে একটা নিউজ করিয়ে দেই। তিনি নীতিতে এতই অটল এবং দৃঢ় ছিলেন।”
আতাউস সামাদ ১৯৯২ সালে সাংবাদিকতায় একুশে পদক পান। ২০১২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি প্রয়াত হন।
একাধারে বার্তা সংস্থা, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও ও সাপ্তাহিক সংবাদমাধ্যমের প্রায় সব শাখাতেই কাজ করার পাশাপাশি তার নীতিভিত্তিক ব্যক্তিত্বের কারণে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারাও তাকে গভীরভাবে সম্মান ও সমীহ করতেন বলে মনে করেন শওকত মাহমুদ।
আতাউস সামাদের সহকর্মী সাংবাদিক ইলিয়াস খান বলেন, “দীর্ঘ দিনের বর্ণাঢ্য জীবনে আতাউস সামাদ ভাই আমাদের জন্য অনুকরণীয়। তিনি আমাদের সঠিক সাংবাদিকতা করতে গিয়ে কতটুকু দৃঢ়তা দেখানো যায়, কতটুকু কঠিন হওয়ায় সেই পথ দেখিয়েছেন।”
অপর সহকর্মী সাংবাদিক ও কলামিস্ট খায়রুল আনোয়ার মুকুল বলেন, “শিক্ষক হিসেবে এবং পরবর্তীতে আমার দেশ ও এনটিভিতে সম্পাদক হিসেবে আতাউস সামাদকে পাওয়ার অভিজ্ঞতা অনন্য।
“‘অজ্ঞাত সূত্র জানায়’ কিংবা ‘সংশ্লিষ্ট মহল’ বলে অনুমাননির্ভর রিপোর্ট লেখা তিনি কঠোরভাবে অপছন্দ করতেন। বরং সুনির্দিষ্ট তথ্য, নাম ও দলিলের ভিত্তিতে নির্মোহ ভাষায় সংবাদ পরিবেশনের নির্দেশ দিতেন।”
বিএজের সভাপতি এম আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বুরহান
উদ্দিন ফয়সাল সভা সঞ্চালনা করেন।
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎ, লেখক সাখাওয়াত হোসেন শায়ন্ত, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, ডিইউজের সাবেক নেতা বেলায়েত হোসেন, আমিরুল ইসলাম অমর, বিটিভির সাংবাদিক মোরশেদ আলম প্রিন্স সভায় বক্তব্য দেন।
