Published : 23 Dec 2023, 08:53 PM
চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, শিল্পী-সংগ্রামী গোলাম মোহাম্মদ ইদু।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয় বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির প্রচার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কংকন নাগ।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এর আগে লালবাগের বড়ভাট মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের জটিল রোগের সাথে লড়াই করছিলেন গোলাম মোহাম্মদ ইদু। গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে তাকে রাজধানীর হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শুক্রবার বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
রাতে বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয় মরদেহ। শনিবার দুপুর দেড়টায় উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেওয়া হয় গোলাম মোহাম্মদ ইদুর মরদেহ।
সেখানে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা মহানগর সংসদ, ফেনী জেলা সংসদ, মানিকগঞ্জ জেলা সংসদ, কুমিল্লা জেলা সংসদ এবং ঢাকায় অবস্থিত মিরপুর, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, গেন্ডারিয়া, কাফরুল, শান্তিনগর, লালবাগসহ বিভিন্ন শাখা সংসদের শিল্পীকর্মীরা।
পরে দুপুর আড়াইটায় ইদুর মরদেহ নেয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, “দেশের নানা ক্রান্তিকালে পথ দেখিয়েছেন গোলাম মোহাম্মদ ইদু। আমাদের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বিকাশে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার মতো আজীবন বিপ্লবী মানুষকে হারানো দেশের সংস্কৃতি জগতের জন্য বড় ক্ষতি।”
উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান বলেন, “শারীরিকভাবে না থাকলেও মানসিক শক্তি হয়ে উদীচীর সব লড়াই-সংগ্রামে থাকবেন গোলাম মোহাম্মদ ইদু। তার আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করেই উদীচী পথ চলবে। ”
উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, “নিভৃতচারী সাংস্কৃতিক সংগঠক গোলাম মোহাম্মদ ইদু ছিলেন উদীচীর সকল স্তরের শিল্পী-কর্মীদের প্রকৃত অভিভাবক। অসাম্প্রদায়িক, সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণের যে আদর্শকে ধারণ করে তিনি আজীবন লড়াই করে গেছেন, সেই আদর্শ প্রতিষ্ঠায় উদীচী অবিচল থাকবে।”
ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, ছায়ানট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, ট্যানারি শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, ক্ষেতমজুর সমিতি, প্রগতি লেখক সংঘ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্ট বোর্ড, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, শিক্ষা সংস্কৃতি আন্দোলন, কারক নাট্য সম্প্রদায়, সমাজ চিন্তা ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শহীদ মিনার থেকে মরদেহ নেওয়া হয় লালবাগের বড়ভাট মসজিদে। সেখানে জানাজার পর আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
গোলাম মোহাম্মদ ইদুর জন্ম ১৯৩৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। আনুষ্ঠানিকভাবে উদীচী প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রায় এক দশক আগে সত্যেন সেন একটি গানের দল গঠন করেন। সেই গানের দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন গোলাম মোহাম্মদ ইদু।
পরে ১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে উদীচী প্রতিষ্ঠিত হলে গোলাম মোহাম্মদ ইদু প্রথম আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন তথা বাংলাদেশের প্রতিটি ন্যায়সঙ্গত, প্রগতিশীল আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন গোলাম মোহাম্মদ ইদু।