যৌতুকের জন্য চিকিৎসক স্ত্রীকে মারধর: জামিন বাতিলের পর ডা. রাসেল কারাগারে
চিকিৎসক ফারহা করিম গত ১৬ সেপ্টেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।
যৌতুকের জন্য চিকিৎসক স্ত্রীকে মারধরের মামলায় জামিন বাতিল করে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পূর্নবাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসক রাসেল মোরশেদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালত সোমবার এ আদেশ দেন বলে তথ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সিদ্দিকুর রহমান।
এর আগে এদিন মামলার শুনানি উপলক্ষে বাদী ডা. ফারহা করিম ও রাসেল মোরশেদ আদালতে হাজির হন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মাহমুদা বেগম আসামির জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, রাসেল মোরশেদ আপসের শর্তে জামিন নেন। তবে আপস করেননি বরং জামিনের পর বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। তাই আসামি বাইরে থাকলে বাদী ও তার পরিবারের ক্ষতি হবে।
শুনানি নিয়ে আদালত জামিন বাতিল করে রাসেল মোরশেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
এদিকে সোমবার মামলার প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই আরিফুল ইসলাম তা জমা দিতে পারেননি। এ জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর প্রতিবেদন জমার পরবর্তী দিন রাখা হয়েছে বলে তথ্য এসআই সিদ্দিকুর রহমানের।
বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ফারহা করিম গত ১৬ সেপ্টেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় স্বামী রাসেলের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রায় ১৪ বছর আগে ফারহা করিম ও রাসেল মোরশেদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে রাসেল যৌতুকের দাবিতে ফারহা করিমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। তাদের দুইটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। মেয়েদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্বামীর অত্যাচার সহ্য করেও সংসার করছিলেন ফারহা।
বিষয়টি একাধিকবার রাসেলের বাবা-মা ও আত্মীয় স্বজনদেরও জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু রাসেলের বাবা-মা ও স্বজনরা তাকে কোনো প্রকার শাসন করেনি।
রাসেল পরকীয়ায় আসক্ত অভিযোগ করে মামলায় ফারহা দাবি করেন, তার স্বামী মেয়েদের কোন খোঁজ খবর রাখেন না। সর্বশেষ গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২ টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নং সেক্টরস্থ সোনারগাঁও জনপথ রোডের ১৮ নং বাসায় রাসেল স্ত্রীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চায়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে রাসেল ক্ষিপ্ত হয়ে ফারহাকে অকথ্য গালিগালাজ করতে শুরু করে। একপর্যায়ে তিনি হত্যার উদ্দেশ্যে ফারহার মাথায় কাঠের বাটাম দিয়ে আঘাত করেন। ফারহা তা ফেরানোর চেষ্টা করলে বাটামের আঘাত লেগে তার বাম হাতের হাড় ভেঙে যায়। এছাড়া রাসেল তাকে প্রাণে মেরে ফেলে লাশ গুম করার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
