২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

চিত্রনায়ক মান্নার স্ত্রীসহ দুই জনের গাড়িতে আগুন লেগে ক্ষতি, দুই আসামি কারাগারে

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মঙ্গলবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

চিত্রনায়ক মান্নার স্ত্রীসহ দুই জনের গাড়িতে আগুন লেগে ক্ষতি, দুই আসামি কারাগারে

ফাইল ছবি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Oct 2026, 07:20 PM

Updated : 27 Oct 2026, 07:20 PM

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার স্ত্রী শেলী মান্নাসহ দুই জনের গাড়িতে আগুন লেগে প্রায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে করা মামলায় দুই আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল উদ্দীন এ তথ্য দিয়েছেন।

কারাগারে যাওয়া দুই আসামি হলেন শেলী মান্নার ম্যানেজার মো. মামুন মণ্ডল (২৯) ও টেকনিশিয়ান মো. সোহেল পাটওয়ারী (৩৭)।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাড়িতে আগুন লাগার ঘটনায় বাড়ির ম্যানেজার গাজী মানিক মিয়া মঙ্গলবার ভাটারা থানায় মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর সকাল ১১টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে দুই জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই মো. ইয়াউর রহমান তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে বুধবার জামিন শুনানির দিন রেখেছেন বলে জানান এ আইনজীবী।

তিনি বলেন, “গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। সেটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুন লাগে। আসামিদের একজন গাড়ির মালিকের পরিবারের ম্যানেজার, অন্যজন টেকনিশিয়ান। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছেন, এমন অভিযোগ সঠিক নয়।”

মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার রোড-২২/এ, ব্লক-এমের ২৬১৪ নম্বর বাড়ির নিচে গাড়ির গ্যারেজ রয়েছে। ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া শেলী মান্নার একটি প্রাইভেটকার দীর্ঘদিন ধরে সেখানে পড়ে ছিল। গাড়িটির নিচে তেলের চিহ্ন দেখতে পেয়ে সেটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য বাড়ির কর্তৃপক্ষ শেলী মান্নাকে অনুরোধ করেন।

শেলী মান্না তার ম্যানেজার মামুনকে গাড়িটি গ্যারেজ থেকে বের করে ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার মামুন ও সোহেল গাড়িটি মেরামত করতে গ্যারেজে আসেন। বাড়ির ম্যানেজার তাদের গ্যারেজের বাইরে নিয়ে কাজ করার কথা বললেও তারা ভেতরেই মেরামতের কাজ শুরু করেন।

কাজ করার সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাড়িটিতে আগুন লাগে। এতে গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে পাশের আরেকটি প্রাইভেট কারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া গ্যারেজ, বিদ্যুতের তার, সিসিটিভি ক্যামেরা, গেটের শাটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে যায়। ভবনের বিভিন্ন স্থানের কাঁচও ভেঙে যায়। এতে আনুমানিক ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।