Published : 16 Sep 2026, 08:21 PM
রাজধানীতে কিশোর গ্যাং ‘ভইরা-দে’ গ্রুপের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় এক সাংবাদিকের বাসায় গুলি চালানোর ঘটনায় ওই গ্রুপের সদস্য আতিক ওরফে চোরা আতিককে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন–এসআরবি (সাবেক র্যাব)।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্লবীর মোহাম্মদিয়া মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে বুধবার এসআরবির এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কিশোর গ্যাং নিয়ে বাংলা টিভিতে প্রতিবেদন প্রকাশের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ‘ভইরা-দে’ গ্রুপের হোতা আশিকের নির্দেশে তার সহযোগীরা ওই টিভির প্রতিবেদক প্রান্ত পারভেজের বাসায় হামলা ও গুলি চালায়।
অভিযোগ পাওয়ার পর এসআরবি-৪ ব্যাটালিয়নের একটি দল অভিযান চালিয়ে ২২ বছর বয়সী আতিককে গ্রেপ্তার করে।
এসআরবির ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে পল্লবীর সবুজ বাংলা, বাউনিয়াবাঁধ, এভিনিউ-৫ ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ অস্ত্র নিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন ওই গ্রুপের সদস্যরা।
গ্রেপ্তার আতিকের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে পল্লবীর সবুজ বাংলা এলাকায় সাংবাদিক প্রান্ত পারভেজের বাসায় হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে।
এসআরবি জানায়, দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন সশস্ত্র ব্যক্তি ওই বাসায় ঢুকে প্রান্ত পারভেজকে খোঁজাখুঁজি করেন। একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে তারা পালিয়ে যান।
ওই ঘটনায় পল্লবী থানায় মামলা করেন প্রান্ত পারভেজ। পরে এসআরবির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ‘ছায়া তদন্ত’ শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ভিডিও ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে রবিন (২২) নামে একজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায় এসআরবি। এর ভিত্তিতে ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে পল্লবীর তালতলা বস্তিতে রবিনের বাসায় অভিযান চালানো হয়। সে সময় তার মা ডলি বেগমকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি বলছে, ডলি বেগমের কাছ থেকে ৭৪৫টি ইয়াবা বড়ি ও ১৫ গ্রাম ইয়াবার গুঁড়া উদ্ধার করা হয়। এসব মাদকের আনুমানিক দাম ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
তবে এসআরবির উপস্থিতি টের পেয়ে রবিন সেদিন পালিয়ে যান। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে পল্লবীর মোহাম্মদিয়া মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার দুই নম্বর আসামি আতিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসআরবি খবর পায়, ‘ভইরা-দে’ গ্রুপের সহযোগী রবিন, ইব্রাহিম, শাহিন ওরফে শুটার শাহিন এবং আল আমিন পল্লবীর সেকশন-১১ ও এভিনিউ-৫ এলাকায় অবস্থান করছেন।
পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে কাউকে ধরতে না পারলেও একটি টিনের ঘরের পেছন থেকে একটি খালি ম্যাগাজিন, নয়টি তাজা গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে এসআরবি।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে পৃথক অভিযানে পল্লবী থেকে অন্য একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য নিলয় সুজনকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৪। তার কাছ থেকে ছয়টি মোবাইল ফোন, দুটি ধারালো রামদা এবং এক পুরিয়া গাঁজা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
অন্য এক অভিযানে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পলাতক আসামি সোহেল রানাকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৪।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এসআরবির ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৬ অগাস্ট দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কারারক্ষীদের আহত করে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যান সোহেল। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।