সাইবার আইন: মতামত নেবে সংসদীয় কমিটি, জানালেন আইনমন্ত্রী
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাগুলোর সাজা কীভাবে কম দেওয়া যায়, সেই চিন্তাভাবনা হচ্ছে বলে জানান আনিসুল হক।
সাইবার নিরাপত্তা আইন জাতীয় সংসদে পাসের আগে সংসদীয় কমিটিতে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে বলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন।
মন্ত্রিসভায় আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের পরদিন মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ৩ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে উত্থাপনের জন্যই এটি মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।
“সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে অবশ্যই অংশীজনদের ডেকে আলাপ-আলোচনা করা হবে, সেটা হবে। আপনারা আমার কাছ থেকে জানতে পারবেন। আলোচনার করার যে কথা, সেটা আলোচনা করা হবে।”
বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে সাইবার নিরাপত্তা আইন হচ্ছে। তবে নতুন আইন নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের। প্রস্তাবিত আইনের খসড়া উপর অংশীজনদের মতামতও নেওয়া হনি।
চারটি ধারা জামিন অযোগ্য রেখে অনুমোদিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের প্রস্তাব এখন সংসদে উত্থাপিত হবে। বিল আকারে কোনো আইন সংসদে উত্থাপন হওয়ার পর তা সাধারণত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
সাইবার নিরাপত্তা আইনের খসড়ার উপর সবার মতামত দিতে তা তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের ওয়েবসাইটে রাখা হয়েছিল। ১০ দিনের মধ্যে যেসব পর্যবেক্ষণ এসেছে, তা একত্রিত করে প্রস্তাবিত আইনের সঙ্গে সেগুলোও সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে দেওয়া হবে বলে জানান আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “যারা এখানে তাদের বক্তব্য জানাতে চাচ্ছেন, তাদেরকে স্ট্যান্ডিং কমিটির সামনে গতবারের মতো বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ আমরা করে দেব।”
আগের মামলার নিষ্পত্তি কীভাবে?
সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণীত হওয়ার পর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে চলমান মামলার সাজা কীভাবে হবে, এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আগের মামলাগুলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুসারেই চলবে- সাইবার নিরাপত্তা আইনের মধ্যে এ কথাটা উল্লেখ আছে।
তবে ওই সব মামলার সাজা কীভাবে কম দেওয়া যায়, সেই চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে পরিস্কারভাবে লেখা আছে, অপরাধ করার সময় যে আইন বলবৎ ছিল সে আইনেই বিচারকার্য হবে এবং সেই আইনে যে সাজা ছিল সেই সাজাই দিতে হবে। ৩৫ অনুচ্ছেদে একটা কথা আছে সেটা হচ্ছে যদি নতুন আইন যেটা করা হচ্ছে ওটার পরিবর্তে সেখানে যদি সাজা অধিক হয় তাহলে সে সাজাটা দেওয়া যাবে না। পুরোনো আইনে অর্থাৎ যে আইনে সে অপরাধ করেছে অথবা যে আইন বলবৎ ছিল অপরাধ করার সময়, সেই আইনে যে সাজা আছে তাকে সেই সাজাই দিতে হবে।
“এখানে আমরা অনেক চিন্তা-ভাবনা করেছি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আমরা যদি ২১ ধারা ধরি, এই ধারায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ১০ বছর সাজা। নতুন আইনে অর্থাৎ সাইবার নিরাপত্তা আইনে বলা হচ্ছে পাঁচ বছর। তাহলে বিজ্ঞ আদালত যখন এই আইন পাস হওয়ার আগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বলবৎ থাকার সময় যে অপরাধ হয়েছে তাহলে তিনি সংবিধান মতে এই ১০ বছর সাজা কিন্তু দিতে পারেন। আমরা সেখানে যাতে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়, এমন একটা ব্যবস্থা করতে চাচ্ছি।”
আইনমন্ত্রী বলেন, “সাজা কমাতে যাতে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়। সে কমানো সাজার মধ্যেই যাতে তারা থাকেন সেরকম একটা ব্যবস্থার চিন্তাভাবনা করছি। সেজন্যই আমি কিন্তু এখন বললাম এটা পাস হওয়ার পরেই আপনারা বুঝবেন এটার কি রূপ আমি দিচ্ছি।”
‘আদালতকে কলুষিত করাটা ঠিক হবে না’
রাজনৈতিক কারণে আদালক কলুষিত করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
তারেক রহমানের বক্তব্যের কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরানোর শুনানিতে আইনজীবীদের হট্টগোল প্রসঙ্গে এ কথা বলেন তিনি।
ওই শুনানিতে বিচারকদের এজলাস থেকে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনজীবী আনিসুল হক বলেন, “আমি সকল পক্ষের কাছে আবেদন করি যে, আদালতের মর্যাদা যেন কেউ হানি না করে। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে আদালত থাকবে। আমরা আইনজীবীরা সকলে অফিসার অব দ্য কোর্ট।
“আমি তাদের কাছে আহ্বান জানাব- রাজনীতির কারণে আদালতকে কলুষিত করাটা ঠিক হবে না। কারণ তাদের ধৈর্য ধারণ করা উচিৎ।”
