২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

মুন্সীগঞ্জ কারাগারে তারেক সাঈদকে নির্যাতনের অভিযোগ, কারা কর্তৃপক্ষের অস্বীকার

তবে কারা কর্তৃপক্ষ নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, কারাগারে জেল সুপারের সঙ্গে ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ ও নষ্ট খাবার ছোড়ার ঘটনায়’ তারেক সাঈদসহ দুজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ কারাগারে তারেক সাঈদকে নির্যাতনের অভিযোগ, কারা কর্তৃপক্ষের অস্বীকার

তারেক সাঈদ, ফাইল ছবি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 22 Sep 2026, 05:31 PM

Updated : 22 Sep 2026, 05:52 PM

মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

তবে কারা কর্তৃপক্ষ নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, কারাগারে জেল সুপারের সঙ্গে ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ ও নষ্ট খাবার ছোড়ার ঘটনায়’ তারেক সাঈদসহ দুজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সোমবার তার ফেইসবুক পেইজে নির্যাতনের ওই অভিযোগ সামনে আনেন। এ নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে মঙ্গলবার কারা কর্তৃপক্ষ বক্তব্য জানা যায়।

সায়েরের ফেইসবুক পোস্টে বলা হয়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে জেল সুপার মো. জান্নাত-উল ফারহাদের নির্দেশে অন্তত পাঁচজন কারারক্ষী ‘কারাগারের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে তারেক সাইদের ওপর লাঠি নিয়ে হামলা করেন’। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।

কারাগারের ভেতরে অন্য এক বন্দিকে জেল সুপারের ওপর ‘নোংরা পানি ফেলতে উসকানি দেওয়ার’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে তারেক সাঈদের ওপর এ হামলা হয় বলে কারাসূত্রের বরাতে দাবি করেন সায়ের।

তিনি লিখেছেন, “তারেক সাইদের পরিবারের দাবি, কেরানীগঞ্জ জেলে থাকা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি ও অকালীন অবসরে পাঠানো আরেকজন সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিষয়ে সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশে আগ্রহ দেখানোর কারণে জিয়াউল আহসানের নির্দেশে তারেক সাঈদকে হত্যার লক্ষ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে।

“নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার পরবর্তী সময়ে তারেক সাঈদ একাধিকবার জিয়াউল আহসানের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন যে, জিয়াউল আহসান চক্রান্ত করে তাকে এই ঘটনায় ফাঁসিয়ে দিয়েছেন।”

তারেক সাঈদের পরিবারের পক্ষ থেকে তার মা দিলুয়ারা বেগম কারা কর্তৃপক্ষকে ‘নির্যাতনের’ অভিযোগের বিষয়টি জানিয়েছেন এবং আহত তারেক সাঈদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বলে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধৃত করে জানান সায়ের।

সায়ের তার ফেইসবুক পোস্টে তারেক সাঈদের মায়ের একটি আবেদনপত্রের ছবিও প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে কারা অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মিডিয়ার দায়িত্বে থাকা জেলার মাসুদ হাসান বন্দিদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে সেদিনের ঘটনার একটি বিবরণ দেন।

মাসুদ হাসান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে জেলারকে সঙ্গে নিয়ে জেল সুপার কারাবন্দিদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা সরাসরি শোনেন। ঘটনার দিনও জেল সুপার বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে যান।

এই কারা কর্মকর্তার ভাষ্য, তারেক সাঈদের সেলের পাশে কামাল নামে আরেকজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন। ওই দিন তারেক সাঈদ আগের দিনের নষ্ট খাবার কামালকে রেখে দিতে বলেন।

“জেল সুপার পরিদর্শনে এলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কামাল ওই খাবার জেল সুপারের দিকে ছুঁড়ে মারেন। এসময় তারেক সাঈদও এ নিয়ে জেল সুপারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে যান।”

তাদের আচরণ ‘উগ্র’ ছিল এবং তারা ‘হুমকি’ দিচ্ছিলেন অভিযোগ করে জেলার মাসুদ হাসান বলেন, “এসময় জেল সুপারের সাথে থাকা সদস্যরা সেলের ভেতরে থাকা বন্দিদের নিবৃত্ত করেন।”

তারেক সাঈদের আগেও কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ করেছেন এবং বিভিন্ন ধরনের ‘উসকানিমূলক বক্তব্য’ দিয়েছেন বলে দাবি করেন মাসুদ হাসান।

তিনি বলেন, কারা বিধি অনুযায়ী দুজনের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারেক সাঈদকে মুন্সীগঞ্জ কারাগার থেকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে এবং কামালকে দিনাজপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ ছাড়া শাস্তি হিসেবে তারেক সাঈদ এক মাস টেলিফোনে বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। আর কামালকে ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হবে।

তারেক সাইদের মা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে নির্যাতনের বিষয়ে কোনো অভিযোগ দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে মাসুদ হাসান বলেন, “না, এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ কারা অধিদপ্তরে আসেনি। তিনি কাউকে মৌখিকভাবে বা মোবাইলে করেছেন বলেও জানা নেই।”

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন অপহৃত ও পরে খুন হন। ওই সময় নারায়ণগঞ্জ র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক ছিলেন লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ।

তদন্ত ও বিচারিক নথিতে র‌্যাব কর্মকর্তাদের অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে তারেক সাঈদের নির্দেশ ও সম্পৃক্ততার কথা উঠে আসে। ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জের আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন; একই বছর হাই কোর্টও সেই সাজা বহাল রাখেন।