এমপি নজরুলের দ্বিতীয়পত্নীর আত্মহত্যা: মামা ওবায়দুর রিমান্ড শেষে কারাগারে
গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম থেকে ওবায়দুরকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি।
জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় তার মামা ওবায়দুর রহমানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন বলে তথ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম।
মরিয়মের মামা ওবায়দুরকে গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি। ২৮ সেপ্টেম্বর তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন বৃহস্পতিবার। ওইদিন আদালত তার ৪ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
রিমান্ড শেষে সোমবার ওবায়দুরকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
ওবায়দুরের পক্ষে তার আইনজীবী গোলাম সাবের চৌধুরী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তবে আদালত মঙ্গলবার জামিন শুনানির দিন ধার্য করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
ওই রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল, মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুরের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনে গাজী নজরুলের ৪ দিন ও মাকছুদার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। সেদিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে একদিনের রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আর দুই দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর নজরুল ইসলামকে পাঠানো হয় কারাগারে।
ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে ৩০ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ও মাকছুদার জামিন চেয়ে আবেদন করেন তাদের আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান। মরিয়মের বাবার সঙ্গে আসামিদের আপোসের কথা জানান তিনি। তারা জামিন পেলে বাদীপক্ষের আপত্তি নেই বলেও জানানো হয়। পরে আদালত মাকছুদাকে জামিন দিলেও গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছিল।
এদিকে সোমবার গাজী নজরুলের জামিন চেয়ে আবেদন করেছেন তার আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম বুধবার এ বিষয়ে শুনানির দিন রেখেছেন।
