দুর্গোৎসব: গুজব ঠেকাতে সাইবার নজরদারি জোরদার ডিএমপির
দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তায় নিয়মিত দায়িত্বের অতিরিক্ত ২ হাজার ৭২ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।
শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা ঠেকাতে ‘সাইবার নজরদারি জোরদার করেছে’ ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “ঢাকা মহানগরীতে শারদীয় দুর্গোৎসব যাতে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, সে লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্গাপূজা নিয়ে গুজব বা অপপ্রচার চোখে পড়লে কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত সন্দেহজনক কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত কাছেন থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানোর অনুরোধ করেন ডিএমপি কমিশনার।
এ বছর ঢাকা মহানগরীতে ২৫৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, মণ্ডপগুলোর গুরুত্ব, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সেগুলোকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
“এসব মণ্ডপে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হবে।”
গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোর প্রবেশপথে নিরাপত্তা তল্লাশি কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, পূজার নিরাপত্তায় নিয়মিত দায়িত্বের অতিরিক্ত ২ হাজার ৭২ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগের সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মণ্ডপের আশপাশে টহল দেবেন এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি ও বস্তুর ওপর নজরদারি করবেন।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট, এক্সপ্লোসিভ রিকভারি অ্যান্ড বম্ব ডিসপোজাল টিম, ডগ স্কোয়াড ও ক্রাইম সিন ইউনিটও প্রস্তুত থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।
বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিসর্জন শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ওয়াইজঘাটে শেষ হবে। শোভাযাত্রার পথ ও জনসমাগম বিবেচনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। শোভাযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা এবং জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনে পূজা উদযাপন কমিটি, মন্দির পরিচালনা কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন ডিএমপি কমিশনার। পূজামণ্ডপে আসা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতা করার আহ্বানও জানিইয়েছে
প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণিসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
