০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

লটারিতে ঢাকায় ১৮ সাব-রেজিস্ট্রার

“ঢাকার পোস্টিংকে সাব-রেজিস্ট্রারদের জন্য ‘প্রাইজ পোস্টিং’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই প্রথম ধাপে ঢাকার পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রেই লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Oct 2026, 07:09 PM

Updated : 06 Oct 2026, 07:09 PM

ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে পদায়নের জন্য দেশের ‘এ ক্যাটাগরি’র ১৩১ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে ১৮ জনকে বাছাই করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

সাব-রেজিস্ট্রারদের মধ্যে ঢাকায় পদায়নকে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ হিসেবে দেখার প্রবণতা এবং এ নিয়ে নানা নেতিবাচক ধারণা দূর করতে প্রথমবারের মত এ পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ লটারি হয়। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান লটারির মাধ্যমে এই বদলি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

তিনি বলেন, “সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়ন নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। সেই নেতিবাচক জায়গা থেকে উত্তরণের জন্য কোনো না কোনো জায়গা থেকে শুরু করতে হবে। ঢাকার পোস্টিংকে সাব-রেজিস্ট্রারদের জন্য ‘প্রাইজ পোস্টিং’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই প্রথম ধাপে ঢাকার পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রেই লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

লটারিতে বাছাই হওয়া ১৮ জনকে সরাসরি নির্দিষ্ট কোনো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পদায়ন করা হবে না। তাদের দক্ষতা, কাজের চাপ সামলানোর সক্ষমতা ও সংশ্লিষ্ট স্টেশনের প্রয়োজন বিবেচনা করে ঢাকার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পদায়ন করা হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, “শুধু ঢাকায় নয়, পর্যায়ক্রমে যেসব জায়গাকে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং যেখানে দুর্নীতির শিকড় গজানোর অভিযোগ রয়েছে, সেসব জায়গাতেও পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তার ভাষ্য, লটারির উদ্দেশ্য কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া নয়, বরং কোনো ধরনের বৈষম্য না করে একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পদায়ন শুরু করা।

“এই উদ্যোগের কার্যকারিতা ভবিষ্যতে মূল্যায়ন করা হবে এবং দুর্নীতি কমাতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

ঢাকায় বাছাই হওয়া কর্মকর্তাদের কতদিন রাখা হবে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সার্ভিস রুল অনুযায়ী যতদিন অনুমোদন করবে এবং তারা ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, ততদিন থাকবেন। তবে দুর্নীতিতে জড়ালে তাদের রাখা হবে না।”

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রণালয় মনিটরিং করছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদেরও সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “আপনাদের হাতে যদি কোনো প্রমাণ থাকে, আমাদের দেবেন। আমরা ব্যবস্থা নেব। আর সাংবাদিকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে সাব-রেজিস্ট্রারদের কাছ থেকে চাঁদা বা মাসোহারা চাওয়ার অভিযোগ পাই আমরা।”

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে হয়রানি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

সারা দেশে বর্তমানে ৩৭২ জন সাব-রেজিস্ট্রার কর্মরত রয়েছেন। এর বাইরে প্রায় ১৩৯টি পদ শূন্য রয়েছে।

কর্মরতদের মধ্যে ‘এ ক্যাটাগরি’র সাব-রেজিস্ট্রার রয়েছেন ১৩১ জন। তাদের মধ্য থেকেই লটারির মাধ্যমে ঢাকার জন্য ১৮ জনকে বাছাই করা হয়েছে।

এই ১৮ জন হলেন—মো. গোলাম মোর্তজা (রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ), অমায়িক বাবু (সদর, সাতক্ষীরা), ফরিদা আক্তার (চিতোষী, চাঁদপুর), অজয় কুমার সাহা (সদর, চুয়াডাঙ্গা), অমিত মঙ্গল চাকমা (সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম), মো. রাসেল মল্লিক (সদর, কুষ্টিয়া), গোবিন্দ সাহা (মনোহরদী, নরসিংদী), মো. মাসুম (নাজিরপুর, পিরোজপুর), এস এম আবু মুসা (নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া), নাজনিন জাহান (শ্যামনগর, সাতক্ষীরা), মোহাম্মদ হানিফ (দাউদকান্দি, কুমিল্লা), মনীষা রায় (পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও), সিং মং থোয়াই (গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রাম), রাজিব মজুমদার (গোপালপুর, টাঙ্গাইল), আলী আজগর (সদর, মুন্সিগঞ্জ), শর্মিলা আহমেদ শম্পা (ঘিওর, মানিকগঞ্জ), আমিনা বেগম (সদর, যশোর) ও টিনু চাকমা (ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম)।

আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, অতিরিক্ত সচিব এস এম এরশাদুল আলম, অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজিআর) শামীমা আফরোজসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।