২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অপরিণামদর্শী ও স্থিতিশীলতার অন্তরায়: আইপিডি

তেলের দাম সরাসরি ভোক্তাপর্যায়ে অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া কোনো টেকসই সমাধান নয় বলে মত সংস্থাটি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 22 Sep 2026, 08:33 PM

Updated : 22 Sep 2026, 08:33 PM

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তকে অপরিণামদর্শী ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্তরায় আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)।

সংগঠনটি বলছে, কোনো ধরনের আলোচনা, গণশুনানি, জনপরামর্শ ও অংশীজনের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা কিংবা মূল্যবৃদ্ধির সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাবের ‘প্রকাশ্য মূল্যায়ন’ ছাড়াই এই দাম বাড়ানো হয়েছে।

জ্বালানির দাম বাড়ানোকে অস্বাভাবিক ‘আখ্যা’ দিয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইপিডি বলেছে, “আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা ও রাজস্ব চাপের অজুহাতে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী, অপরিণামদর্শী ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্তরায়।”

আইপিডি মনে করে, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংকট বা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার কারণে তেলের দাম সরাসরি ভোক্তাপর্যায়ে অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া কোনো টেকসই বা পরিকল্পিত সমাধান নয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “আমাদের অর্থনীতিতে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ডিজেল, যা দেশের পরিবহন, কৃষি ও পণ্য সরবরাহের মূল চালিকাশক্তি। ফলে জ্বালানির এই নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধি বাস ও পণ্য পরিবহন ভাড়া অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেবে, যা উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনযাত্রাকে চরম সংকটে ফেলবে।”

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থাও এই মুহূর্তে স্থিতিশীল নয় মন্তব্য করে আইপিডি বলছে, “চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ১৫-২০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ফলে বিগত পাঁচ মাসের মধ্যে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন পরিকল্পনাকে বিশাল সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

একইসাথে নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষের জীবনযাপন ও বেঁচে থাকার সংগ্রামকে সামনের দিনে আরও কঠিন করে তুলবে।”

জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পরিবহন ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও শিল্পের উৎপাদন ব্যয়ে চাপ তৈরি করবে এবং শেষ পর্যন্ত খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করবে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।

ভবিষ্যতে জ্বালানি মূল্য সমন্বয়ের আগে অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা, সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানির ওপর প্রযোজ্য শুল্ক, কর ও ভ্যাট সাময়িকভাবে সমন্বয় করা, ঢালাও ভর্তুকির পরিবর্তে কৃষি সেচ, গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন ও জরুরি সেবায় ডিজিটালভাবে যাচাইযোগ্য লক্ষ্যভিত্তিক জ্বালানি সহায়তা চালু করার দাবি তুলেছে আইপিডি।