শাহজাহানপুরে ‘সম্পত্তির বিরোধে শ্যালককে কুপিয়ে’ হত্যা, গ্রেপ্তার ২
“তাদের উদ্দেশ্য ছিল—সবাইকে বঞ্চিত করে পুরো বাড়িটি তাদের দখলে নেওয়া।”
ঢাকার শাহজাহানপুরে মোহাম্মদ ফকরুল হাসান ফরহাদ নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় তারই বোন ও ভগ্নিপতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর ফোন পেয়ে লাশ উদ্ধারের কথা জানান শাহজাহানপুর থানার এসআই মেহেদী হাসান।
তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।
“প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।”
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নিহতের বড় বোন নুর আফসানা নিপা (৪৫) ও ভগ্নিপতি আব্দুস সামাদ সুজন (৫৮)।
ফরহাদরা (৪৪) শাহজাহানপুরের আমতলা এলাকার মৃত নূর মোহাম্মদের সন্তান। কয়েকবার স্ট্রোক করা ফরহাদ বেশিরভাগ সময় বাসায় থাকতেন। ১০ বছর আগে বিয়ে হলেও তার কোনো সন্তান ছিল না।
নিহতের আরেক বোন নার্গিস সুলতানা জানান, তারা দুই বোন ও এক ভাই। শাহজাহানপুরের চারতলা বাড়ির জমিটি দুই বোনের নামে নিবন্ধিত। এ সম্পত্তি, গ্যাস ও পানি বিল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আফসানা ও তার স্বামী সুজনের সঙ্গে তাদের বিবাদ চলছিল।
নার্গিস অভিযোগ করে বলেন, “তাদের উদ্দেশ্য ছিল—সবাইকে বঞ্চিত করে পুরো বাড়িটি তাদের দখলে নেওয়া।”
তার ভাষ্য, ভবনের চারতলার ছাদের অংশ তার নামে থাকায় সেখানে ভাই ফরহাদকে থাকতে দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে একটি টিনশেড ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন ফরহাদ। তার স্ত্রী বিউটি পার্লারে কাজ করেন।
নার্গিস বলেন, “বুধবার রাতে সুজন চাপাতি নিয়ে ঘরে ঢুকে ফরহাদকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে আমার ভাইকে। এমন নৃশংসভাবে আমার ভাইকে খুন হতে হবে—এটা আমি কখনো ভাবতে পারিনি।
“আমি এই হত্যার সঠিক বিচার চাই। আজ আমার ভাইকে হত্যা করেছে। এরপরে তো আমাদেরও সে হত্যা করতে পারে; আমাদের দেশে হত্যা করবে না—এটা গ্যারান্টি কে দিতে পারে?”
