১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

উন্নয়ন প্রকল্প: মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি রোধে পরিকল্পনা কী, তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

“দেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটি মাত্র কারণে হয় না।“

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Sep 2026, 07:11 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ চিহ্নিত করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেছেন।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান নানা উদ্যোগের কথা জানান।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকাল সাড়ে ৩টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথম আধা ঘন্টা ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরপর্ব।

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটি মাত্র কারণে হয় না। বরং প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যা তৈরি করে। 

“প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতার বিষয়টি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।”

তারেক রহমান বলেন, “প্রথমত, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণগুলো হলো—দুর্বল ফিজিবিলিটি স্টাডি, প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন যথাযথ না হওয়া, প্রকল্প এলাকা নির্বাচনে দুর্বলতা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়া, দুর্বল মনিটিরিং ও জবাবদিহিতা, অর্থায়ন পরিকল্পনা ও বাজেট সামঞ্জস্যের ঘাটতি, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাব ইত্যাদি।”

এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী, যার মধ্যে রয়েছে—

•    নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রণয়ন নিশ্চিত করা

•    প্রকল্প অনুমোদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করা

•    প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে নির্দেশিকার সংশোধন

•    চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিং জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন

•    নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি বৃদ্ধি

•    ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার

•    যেসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়নি; সেসব প্রকল্পের বিলম্ব, অনিয়ম, ব্যয় বৃদ্ধি ও সংশোধনের কারণ নিরূপণ করে বিলম্বের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান

•    যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেসব প্রকল্পের উপযোগিতা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে প্রকল্পগুলো পুনর্বিন্যাস, স্কোপ পরিবর্তন কিংবা চলমান রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ

•    বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণ না করে সমন্বিত কর্মসূচির অধীনে গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান

•    সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপি ব্যবহারের সম্প্রসারণ

•    পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ 

•    প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দায়িত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ

•    বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদকরণ

•    সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলের প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্ব প্রদানের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান এবং

•    সরকারি ক্রয় অধিকতর প্রতিযোগিতা এবং জবাবদিহিতামূলক করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫ হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এই দেশের জনগণের কষ্টার্জিত অর্থনীতি বিভিন্নভাবে অপচয় করা হয়েছে, লুটপাট করা হয়েছে…তার উপরে ইন্টেরিয়াম গভর্মেন্ট একটি কমিটি গঠন করেছিল এবং সেই কমিটি সমগ্র দেশের মানুষের সামনে একটি শ্বেতপত্র বা এই ধরনের একটি রিপোর্ট, হোয়াইট পেপার প্রকাশ করেছিল। 

“সেখানে বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল অর্থনীতির বিষয়টি। ওই পেপারটা যদি বের করে দেখেন তাহলে মোটামুটিভাবে সেখানে পরিষ্কার একটি চিত্র পাবেন।

“বর্তমান সরকার সেই পেপারটিকে সামনে রেখে যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত, পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা চেষ্টা করছি সেই সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য।”