১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গেন্ডারিয়ায় গোলাগুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলির ঘটনায় ‘শুটার জাকিরকে’ গ্রেপ্তার করার তথ্যও দিয়েছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Sep 2026, 06:42 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

ঢাকার গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছে, 'আধিপত্য বিস্তারের জেরে' এ ঘটনা ঘটেছে।

গেল রোরবার সন্ধ্যার পরের এ ঘটনায় সিসিটিভি ভিডিও বিশ্লেষণ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বুধবার তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ফরিদ বেপারী (২৩), মো. সবুজ (২২), সাহাদত হোসেন আলিফ (১৮) ও রিফাত হোসেন (১৯)।

তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, একটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি ছোরা এবং ১৬০টি ইয়াবা পাওয়ার কথা বলেছে পুলিশ।

রোববার স্বামীবাগের মুনশিরটেক জামে মসজিদের গলিতে একদল যুবকের এলোপাথারি গুলিতে স্থানীয় দোকানীসহ ৩ জন গুলিবিদ্ধ হন।

স্থানীয় কর্মী মনির হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয় ঘিরে এ হামলা চালানো হয়, তখন তার ওই কার্যালয় ভাংচুর করার পাশাপাশি হামলা চলে আশপাশের কয়েকটি দোকানেও।

বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয় জানাতে সংবাদ সম্মেলনে এসে অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, "ছায়াতদন্তের ধারাবাহিকতায় বুধবার ধোলাইপাড় থেকে দয়াগঞ্জগামী সড়কে একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।"

এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, "মনিরের একটা রাজনৈতিক পরিচয় আছে। এক হতে পারে যে, তার সঙ্গে ওই ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, আরেকটা হতে পারে দীর্ঘদিন যাবত তারা মাদক ব্যবসা করতেছে। অনেক এলাকায় জনপ্রতিনিধিরা চেষ্টা করতেছে, মাদক ব্যবসা প্রতিরোধ করার জন্য। এটার সূত্র ধরেও গন্ডগোল হতে পারে, এখন আমরা তাদেরকে অ্যারেস্ট করতেছি, জিজ্ঞাসাবাদ করতেছি।"

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই 'আধিপত্যের জের' বলার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, "অটো সজলের নাম আমরা পেয়েছি, যদিও সে জেলে আছে। মামলা হয়েছে, আমরা এটা তদন্ত করছি।"

বিএনপি নেতা মনির দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক ছিলেন, এলাকায় ফিরে নিজের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন। রেললাইন সংলগ্ন মাদক সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা থেকে সেখানকার 'চিহ্নিত মাদক কারবারী ও অস্ত্র ব্যবসায়ী অটো সজলের সঙ্গে বিরোধ' থেকে মনিরের গ্রুপের দন্দ্বের জেরে এ ঘটনার ঘটনার সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার দিকে অটো সজলের গ্রুপের ১৫-২০ জন এলাকায় ঢুকে মনিরের অফিস ঘিরে হামলা চালায়, এ সময় মনিরের দিক থেকেও গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান শফিকুল বলেন, "প্রাথমিক তদন্তে এটা জানা গেছে যে, মনিরের পক্ষ থেকেও অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তার কিছু লোক ওখানে প্রতিরোধ করতে গেছে, সেই প্রতিরোধ করতে গিয়ে তারা অস্ত্র ব্যবহার করছে, এটাও জানা গেছে।

"এটা তদন্তে এলে আমরা কাউকে ছাড় দেব না। কে কোন দল করে, সেটা দেখা আমাদের বিষয় নয়।"

ছিনতাইকালে শিক্ষক নিহত: ‘প্রকৃত সত্য’ উদঘাটনে কাজ করছে ডিবি

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীদের টানে অটোরিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকা নিহতের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার ও উদ্ধার মোটরসাইকেল নিয়ে উঠা প্রশ্নের জেরে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেছেন, তারা ‘প্রকৃত সত্যটা উদঘাটনে’ কাজ করছেন।

শনিবার ভোরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে নিহত হন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন।

পরের দিন এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব বলেছিল, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। এদের তিনজনই বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন।

তাদের কাছ থেকে ‘ছিনতাইয়ের সময় ব্যবহার করা ইয়ামাহা আর১৫’ মডেলের মোটরসাইকেল উদ্ধারের তথ্য দিয়েছিল র‌্যাব। তবে সিসি ক্যামেরার ভিডিওচিত্রে যে মোটরসাইকেল দেখা গেছে সেটা ‘সুজুকি জিক্সার এসএফ ২০২০’ মডেলের একটি মোটরসাইকেল।

এ বিষয়ে নানা আলোচনার বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল বলেন, “এটা একটা আলোচিত ঘটনা ছিল, এ ঘটনার পর পর আমরা সবাই কাজ করতেছি। তদন্ত একটা বিশাল ব্যাপার।”

আর র‌্যাবের হাতে যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদের মধ্যে পনি গাজীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই ১২টি ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে; তাকে একেবারেই ‘ধোয়া তুলসি পাতা’ বলা যায় না বলে ভাষ্য এই কর্মকর্তার।

সংসদ ভবনের মতো এলাকায় এমন ছিনতাইয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব অবহেলা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এত বড় ঢাকা মহানগর, আর এ ঘটনাটা সার্বিকভাবে এক মিনিটের কম সময়ের ভিতরে ঘটেছে।

“আগে থেকে সকালবেলা বাস টার্মিনাল ও হসপিটালগুলোর সামনে আমরা একটা পেট্রোল পার্টি দিয়ে রাখছিলাম। এখন আমরা চাহিদাভেদে কোনো কোনো জায়গায়, যেখানে আগে একটা ছিল, সেখানে তিনটা পেট্রোল আমরা দিয়েছি। আমাদের গোয়েন্দাদের আগে একটা করে টিম ছিল, আমরা এখন দুইটা দিয়ে দিছি। এছাড়া আমরা মোটরসাইকেল টিমও দিয়েছি।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা তো কাজ করতেছি। কারণ একটা ঘটনা ঘটলে আপনি কি মনে করেন আমরা শান্তিতে থাকি? আমাদের উপরেতো একটা প্রেশার থাকে। কারণ আমরা চাকরি করি, আমাদের তো জনগণের কাছে একটা দায়বদ্ধতা আছে।”

বনানীতে ‘ডাকাতির প্রস্তুতিকালে’ গ্রেপ্তার ৫

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম বলেছেন, বনানীতে ‘ডাকাতির প্রস্তুতিকালে’ একটি বিদেশি পিস্তল, ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, মাসুদ রানা (২৯), রাজিব হাওলাদার (৩০), হাফিজুল মাতব্বর (২৪), মোহাম্মদ শাকিল হোসেন (২৪) ও বাদল (৪২)।

তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা, অস্ত্রের উৎস এবং তারা আগে কোনো অপরাধে সম্পৃক্ত ছিল কিনা, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

মিরপুর থেকে ‘শুটার জাকির’ গ্রেপ্তার

গেল ৭ জুলাই রাতে মিরপুরে থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সিজুকে গুলির ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে ডিবি।

গ্রেপ্তার জামিল হোসেন ওরফে শুটার জাকির নামে ওই যুবক একজন ‘পেশাদার সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী’ বলে ভাষ্য ডিবির।

বুধবার রাতে তাকে মিরপুর থেকে গ্রেপ্তারের সময় একটি বিদেশি পিস্তল, পিস্তলের ম্যাগজিনে থাকা ২ রাউন্ড গুলি একটি কালো রঙের বিদেশি রিভলবার, রিভলবারের চেম্বারে থাকা ২ রাউন্ড গুলি এবং একটি খালি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “জাকির দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর এলাকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সে কথিত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তানভীর ইসলাম জয়ের সহযোগী হিসেবে মিরপুর এলাকায় কাজ করত।”

জয় মারা হওয়ার পর ‘অপরাধীচক্রের’ আরেক সদস্য তাজকীরের সহযোগী হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বলেও জানান তিনি।

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইফুল ইসলামকে গুলির পেছনে ‘আধিপত্য বিস্তার ও ভাগ-বাটোয়ারা’ বলে ভাষ্য এই কর্মকর্তার।