Published : 30 Oct 2025, 08:18 PM
‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত’ সম্পদ অর্জন ও ‘সম্পদের তথ্য গোপনের’ অভিযোগে মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেডের সাবেক নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞ মো. রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য সাংবাদিকদের জানান।
এর আগে দুদকের অনুসন্ধান দল তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার দাবি করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে রাকিবুল হাসানের সম্পদ বিবরণী দাখিলের তথ্য তুলে ধরে দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গেছে তিনি ৩৩ লাখ ৫৯ হাজার ১২১ টাকার সম্পদ ‘গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য’ দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এছাড়া দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে তিনি ৩ কোটি ২৩ লাখ ৫৭ হাজার ৪৯০ টাকা ‘অবৈধভাবে’ অর্জন করেছেন।
এসব তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন সভায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা দায়েরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন।
সুইপার কলোনিতে অনিয়ম: অভিযোগপত্র অনুমোদন
রাজধানীর ধলপুর সুইপার কলোনি নির্মাণে ‘অনিয়ম, জালিয়াতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের’ মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার ক্ষতি করার অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দুই সাবেক প্রকৌশলী ও এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুদক।
এর ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করার তথ্য দিয়ে দুদকের মহাপরিচালক আক্তার বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মনির মিয়া শিগগির আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেবেন।
দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ২০১৬ সালের এ ঘটনায় এর আগে দায়ের করা এ মামলায় অভিযোগপত্রে আসামি করা হচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মেজবাহুল করিম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মো. মজিবুর রহমান, মেসার্স নাজমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানির মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুনুর রশিদকে।
এ অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) না করেই ‘ভিত্তিহীন কারিগরি বিশ্লেষণের’ ওপর নির্ভর করে স্ট্রাকচারাল ডিজাইন ও প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়। পরে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, অনভিজ্ঞ ঠিকাদার নিয়োগ এবং তদারকির ঘাটতির কারণে ওই কলোনির ‘খ’, ‘গ’ ও ‘ঘ’ গ্রুপের ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
বুয়েটের বিশেষজ্ঞ মতামতে এসব ভবন বাসযোগ্য নয় ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে তুলে ধরা হয়েছে। পরে একনেক বৈঠকের সিদ্ধান্তে ভবনগুলো ভেঙে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তদন্তের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঠিকাদার হারুনুর রশিদ ও প্রকৌশলীদের যোগসাজশে নিম্নমানের নির্মাণকাজ করে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।