Published : 05 Oct 2024, 09:04 PM
মামলা হলেই গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া নির্দেশনা স্মরণ করিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, তদন্তে দোষী প্রমাণ হলেই কেবল আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
শনিবার বিকালে রাজধানীর উত্তরায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদরদপ্তরে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কাউট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ইউনিট লিডার মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর নামে প্রতিষ্ঠিত ‘স্কাউটার শহিদ মীর মুগ্ধ ভবন’ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রবেশ তোরণ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “আগে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করত, ১০ জনের নাম দিত আর ৫০ জন দিত বেনামি। এখন কিন্তু পুলিশ মামলা করছে না। মামলা করছে সাধারণ জনগণ।
"মামলা হলেই গ্রেপ্তার নয়। আগে তদন্ত হবে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলেই কেবল তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
গত ১০ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদরদপ্তর থেকে সঠিক তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ওই নির্দেশনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যেসব মামলা হচ্ছে, সেগুলোর প্রাথমিক তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়া না গেলে তার নাম মামলা থেকে প্রত্যাহার করার কথাও বলা হয়েছে।
আন্দোলনে আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার প্রয়োজনে বিদেশে পাঠাবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, "বিদেশ থেকে চিকিৎসকও আনা হবে। চিকিৎসকদের পরামর্শ মোতাবেক আহত ও অসুস্থদের সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে।"
বিগত সরকারের নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা ‘অপরাধী’ তাদের বেশিরভাগই ৫ থেকে ৭ অগাস্টের মধ্যে পালিয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আর যাতে নতুন করে পালাতে না পারে সেজন্য সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
"এখন পালিয়ে যাওয়াটা তাদের জন্য বেশ দুরূহ হয়ে গেছে। এখন পালাতে গেলে শুধু পুলিশ ও বিজিবি নয়, সাধারণ জনগণই তাদের ধরিয়ে দিচ্ছে।"
উপদেষ্টা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা করারও অনুরোধ করেন।
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত আইজিপি সেলিম মো. জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ও সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. ময়নুল ইসলাম, মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, বড় ভাই মীর মাহমুদুর রহমান দীপ্ত ও জমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।