১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষা খাতে 'পোল ভল্ট জাম্প' দিতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

"গ্লোবাল ভিলেজে আমরা এই ধরনের এডুকেশন নিয়ে ব্যাকডেটেড থাকতে পারব না।”

শিক্ষা খাতে 'পোল ভল্ট জাম্প' দিতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Feb 2026, 04:45 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:58 PM

এমপি হিসেবে শপথ নিতে এহসানুল হক মিলনের লাফিয়ে ও দৌড়ে সংসদে ঢোকার ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিন দপ্তরে এসেই ‘পোল ভল্ট জাম্প’ দেওয়ার কথা তিনি বললেন। 

তার ভাষ্য, শিক্ষাখাতে বহু পরিবর্তন ও উন্নয়ন প্রয়োজন। আর সেই উন্নয়নের জন্য 'হাই জাম্প’ দিলে হবে না, দিতে হবে ‘পোল ভল্ট জাম্প’।

২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীনীয় জোট সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হল মিলন বিএনপির এবারের সরকারে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পরদিন বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।  

তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন শুরু এবং গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মাধ্যমিক পর্যায়ে সেই শিক্ষাক্রম বাতিল করে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়াকে গত কয়েক বছরে শিক্ষাখাতের 'বড় জাম্প' হিসেবে বর্ণনা করে এ খাতে নতুন সরকারের সময় কোনো পরিবর্তন বা চমক দেখা যাবে কিনা–তা জানতে চান সাংবাদিকরা। 

উত্তরে এহছানুল হক মিলন বলেন, "দেখুন, এই ২০০১ সালে দায়িত্ব পাওয়ার পরে নকল প্রতিরোধ হয়েছিল এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হয়েছিল। তো সেগুলো তো চলেই গিয়েছে, সেগুলো আর পুনরাবৃত্তি হবে বলে আমি বিশ্বাস করি না। 

"আর জাম্প বলতে যেটা বুঝছেন— হ্যাঁ, আমাদের এডুকেশন সেক্টরে শুধু হাই জাম্প না, পোল ভল্ট জাম্প দিতে হবে। এটি আমি বিশ্বাস করি।"

উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "গ্লোবাল ভিলেজে আমরা এই ধরনের এডুকেশন নিয়ে ব্যাকডেটেড থাকতে পারব না।” 

উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশকেও যে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে, সে বাস্তবতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "সেজন্যই আমরা প্রস্তুতি নেব এবং সেভাবেই আমরা প্ল্যান ও প্রোগ্রাম লেআউট করে আপনাদের জানাব।"

শিক্ষাক্রম আবার পরিবর্তন করার কোনো পরিকল্পনা বিএনপি সরকারের আছে কি-না, সেই প্রশ্নের উত্তরে আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, "কারিকুলাম চেইঞ্জ নয়, রিভিউ হবে।"

তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষাখাতের মানোন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “আমরা ফোর্থ জেনারেশন অব ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনে আছি। সেখানে আমাদের ন্যানো টেকনোলজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স—এই সবকিছুকে ব্যবহার আমাদের করতে হবে, রোবোটিক্স আমাদের ব্যবহার করতে হবে। অতএব আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে, ডিজিটাল লিটারেসি লাগবে, ইংলিশ লিটারেসি লাগবে—এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করবো।”

শিক্ষাখাতের মানোন্নয়নে কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করা হবে বলেও ব্রিফিংয়ে তুলে ধরেন এহছানুল হক মিলন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য নিয়োগে ‘দুর্নীতি-অনিয়ম’ হয়েছে অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে বর্তমান সরকার ব্যবস্থা নেবে কি না, তা জানতে চান সাংবাদিকরা। 

সরকার ‘পেছনের জানালায় দৃষ্টি রেখে পেছন দিকে গাড়ি চালাতে চায় না’ মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা পেছনে ফিরে যেতে চাই না, আমরা সামনে যাব। সো উই উইল প্রিপেয়ার ফর দ্য ফিউচার।”

সম্প্রতি স্কুল-কলেজ এমপিওভুক্তি নিয়ে ‘দুর্নীতি ও বড় লেনদেন’ হয়েছে অভিযোগ তুলে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অবস্থান জানতে চান। 

জবাবে এহসানুল হক মিলন বলেন, “আমি এবং আমাদের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাহেব—আমরা দুজনেই আপনাদের কাঠগড়ায় দাঁড়াবো কিছুদিন পর, তখন উত্তর দেব।”

বর্তমান সরকারের শাসনামলে কারিগরি শিক্ষা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করাই শিক্ষাখাতের অগ্রাধিকার, বলেন তিনি।

এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা ডিজিটাল লিটারেসির কথা বলেছি। এআই নিয়ে শিক্ষা, এআই অন্তর্ভুক্ত—দ্যাটস নট এক্সক্লুডেড, দ্যাটস ইনক্লুডেড।”

শিক্ষাখাতে কোন দুর্নীতি চলবে না তুলে ধরে তিনি বলেন, “২০০১ হতে ২০০৬ আমি দায়িত্বে ছিলাম, তখন কোনো দুর্নীতি হয়নি। আমরা আবার এসেছি। অতএব কারা কী করেছে তার জবাবদিহিতা আমার দেওয়ার কথা নয়। কিন্তু আমরা করিনি তার প্রমাণ রয়েছে। এবং আমরা এসেছি হবে না—এটাই আপনারা ধরে নিতে পারেন। অ্যান্ড দ্যাটস ফাইনাল।”

পরে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “বিশ্ব যে সিস্টেমগুলো ফলো করে, উন্নত দেশগুলো যে সিস্টেমগুলো ফলো করে পাঠ্যপুস্তক তৈরির জন্য, সেই সিস্টেমগুলো ফলো করে ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তকে মাল্টিপল লেভেলের ইতিহাসবিদদের ইনপুট নিয়ে পাঠ্যপুস্তক তৈরি হবে। গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড ফলো করে আগামীতে আমরা কাজ করবো। 

“আমরা পেছনের দিকে তাকাবো না, আমরা সামনের দিকে তাকাবো। পেছনে কি ভুলগুলো হয়েছে ভুলে যান। আগামীতে যদি আমরা সঠিকভাবে না করি, আমরা দুজনেই (শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী) আপনাদের কাঠগড়ায় থাকবো। সো, এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না।”