Published : 22 Aug 2026, 03:30 PM
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বই টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ‘সর্বনাশ ডেকে এনেছিল’ বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বুধবার সংসদে সিলেট-৩ আসনের বিএনপি দলীয় সদস্য আব্দুল মালিকের এক সম্পূরক প্রশ্নের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
আব্দুল মালিকের প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবেন।
এরপর স্পিকার বলেন, “পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে আমার কিঞ্চিত অভিজ্ঞতা (২২ মে ২০০৩ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০০৬ পর্যন্ত) আছে। এই যে টিপাইমুখ বাঁধ, এটি বাংলাদেশেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী (১৯৯৬-২০০১) আব্দুস সামাদ আজাদের অনুরোধে চালু করেছিল ভারত। আমরাই ডেকে ডেকে নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছিলাম।”
এদিন পরিবেশ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেটের বন্যা ও খরার দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন আব্দুল মালিক।
তিনি বলেন, কালবৈশাখী ও বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি পানি ও বরাক নদীর উজানের প্রবাহে সিলেটের রাস্তাঘাটসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। আবার খরার মৌসুমে পানির অভাবে মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে তিনি জানতে চান, টিপাইমুখ বাঁধের বিষয়ে সরকারের কী পরিকল্পনা আছে এবং পাহাড়ি পানির চাপ ঠেকাতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জবাবে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “টিপাইমুখ যে ব্যাপারটা মাননীয় সংসদ সদস্য বলছেন সেটা আমি আমাদের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলব, যাতে করে ভবিষ্যতে এই সমস্যাটা সমাধান করা যায়।”
মন্ত্রীর উত্তরের পর স্পিকার নিজের অভিজ্ঞতার কথা টেনে টিপাইমুখ বিষয়ে মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ১০০ কিলোমিটার উজানে ভারতের বরাক নদীর টিপাইমুখে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত।
ওই বরাক নদীই বাংলাদেশে ঢুকে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুটি স্রোতধারায় বিভক্ত হয়। এ দুটি আবার এক হয়ে মেঘনা নদী নামে চাঁদপুরে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ গতি পেলে বাংলাদেশের বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছিল। পরিবেশবাদীরা বলছেন, বরাক নদীর ওপর এ প্রকল্পের বিরূপ প্রভাব পড়বে সিলেট তথা বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে।
তবে দিল্লির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, টিপাইমুখে বাঁধ হলেও পানি প্রত্যাহার হবে না। ফলে বাংলাদেশ এতে ‘ক্ষতিগ্রস্ত হবে না’।