Published : 28 Aug 2024, 05:55 PM
রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কাজে বিদেশে ও দেশে অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের স্বাগত জানানো বা বিদায় সংবর্ধনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রাচার বা প্রটোকল নির্ধারণ করে একটি নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
অতীতের নির্বাচনকালীন তত্ত্বাধবায়ক সরকারগুলোর প্রধান উপদেষ্টারা প্রধানমন্ত্রী এবং উপদেষ্টারা মন্ত্রীর মর্যাদা ও সুযোগ সুবিধা পেতেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করায় রাষ্ট্রচারে উপদেষ্টাদের বিষয়টি আর ছিল না।
সে বিষয়টি নির্ধারণ করেই মঙ্গলবার এই নির্দেশনা জারি করা হল।
বিদেশ সফর
বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে যাত্রা ও দেশে ফেরার সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্মসচিব বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।
দেশের ভেতরে সফর
• দেশের ভেতরে সফরকালে উপদেষ্টাদের অভিপ্রায় অনুযায়ী তাদের ঢাকা ত্যাগ ও প্রত্যাবর্তনের স্থানে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের উপদেষ্টার একান্ত সচিব উপস্থিত থাকবেন।
• জেলাসদরে যথাসম্ভব জেলাপ্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা উপদেষ্টার আসা ও বিদায়ের স্থানে অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন।
• জেলাসদরে উপস্থিত থাকার জন্য জেলাপ্রশাসক অথবা পুলিশ সুপারের নিজের সরকারি সফর বাতিল বা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হবে না। এসব ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উপদেষ্টাকে অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন। তবে জেলাপ্রশাসক আগেই নিজের সফরসূচি জারি করে থাকলে উপদেষ্টার সফরসূচি পাওয়ার পরই উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হবেন যে, জেলাপ্রশাসকের সদরে থাকা আবশ্যক কিনা। উপদেষ্টা তেমন ইচ্ছা প্রকাশ করলে সেক্ষেত্রে জেলাপ্রশাসক তার সফরসূচি বাতিল করবেন।
• উপজেলা সদর অথবা উপজেলার অন্য কোনো স্থানে উপদেষ্টার সফরকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা উপদেষ্টাকে অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন। আবশ্যক না হলে জেলাপ্রশাসক কিংবা পুলিশ সুপারের এক্ষেত্রে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই।
• উপদেষ্টার আগমন ও প্রস্থানের সময় আবশ্যক না হলে বিমানবন্দর বা রেলওয়ে স্টেশনে জেলাপ্রশাসক, ঢাকা বা চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার-এর উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। পুলিশ সুপার, কক্সবাজার বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।
• কোনো জেলা বা উপজেলায় উপদেষ্টার আগমন বা প্রস্থানের সময় আশেপাশের জেলার বিমানবন্দর বা রেল স্টেশন ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহৃত হলে ট্রানজিট স্থানে সংশ্লিষ্ট জেলাপ্রশাসকের উপস্থিতির প্রয়োজন নেই; এক্ষেত্রে ট্রানজিট স্থানে জেলাপ্রশাসকের উপযুক্ত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।
• উপদেষ্টাদের আগমন ও প্রস্থানের সময় বিভাগীয় কমিশনার অথবা পুলিশের সংশ্লিষ্ট রেঞ্জের ডিআইজির উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। বিভাগীয় কমিশনার সদর দপ্তরে উপস্থিত থাকলে উপদেষ্টার আগমনের পর তিনি তার সঙ্গে সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করতে পারেন।
• উপদেষ্টাদের সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
দেশের ভেতরে উপদেষ্টার রেল ভ্রমণকালে রেলওয়ে পুলিশে জন্য নির্দেশনা হল-
উপদেষ্টার সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশ সুপার তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট রুটের সকল পুলিশ স্টেশন বা ফাঁড়িকে অবহিত করবেন।
যে স্টেশনে উপদেষ্টা ট্রেন থেকে নামবেন এবং পুনরায় ট্রেনে চড়বেন অথবা কোনো জংশনে ট্রেন বদলের প্রয়োজন হলে সেসব স্থানে পুলিশের একজন পরিদর্শক বা উপ-পরিদর্শক উপস্থিত থাকবেন।
রেলে চট্টগ্রামে যাওয়া ও ফেরার সময় সেখানে চট্টগ্রাম রেলওয়ের পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকবেন।
সাধারণ নির্দেশাবলি
• উপদেষ্টাদের সফরসূচি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণের যথাসময়ে পাঠাতে হবে। সফরসূচিতে কোনো পরিবর্তন হলে তাও যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করতে হবে।
• সার্কিট হাউস বা সরকারি রেস্ট হাউস ছাড়া নিজ বাড়ি কিংবা অন্য কোনো স্থানে অবস্থানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রাচার সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশাবলি প্রযোজ্য হবে। সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
• সফরসূচি প্রণয়নের সময় সফরটি সরকারি, না ব্যক্তিগত তা উপদেষ্টাদের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে। সরকারি সফরের সময় উপদেষ্টাদের জন্য যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ব্যক্তিগত সফরের জন্য যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হলে এ সংক্রান্ত সেবার মূল্য পরিশোধের প্রচলিত নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
• উপদেষ্টার একান্ত সচিব বা সহকারী একান্ত সচিবরা উপদেষ্টার ইচ্ছা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্দেশনায় বলা হয়, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কাজে বিদেশে যাত্রা ও দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে এবং দেশের ভেতরে সফরকালে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল জারি করা নির্দেশাবলি বাতিল করা হল।
রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে কোনো ব্যক্তির অবস্থান অনুযায়ী তার জন্য প্রদেয় সৌজন্য রাষ্ট্রাচার বা প্রটোকল হিসেবে পরিচিত। সব আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম, বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রটোকল বিধি বা নির্দেশিকা অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়।