১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

আগামী দিন ‘ভালোই হবে’, আশাবাদী ত্রিবেদী

"আমি বলতে পারি, কনফিডেন্টলি বলতে পারি, এমন কোনো ইস্যু নাই যা আমরা বসে সলভ করতে পারি না।"

আগামী দিন ‘ভালোই হবে’, আশাবাদী ত্রিবেদী
ভারতের হাই কিমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Aug 2026, 06:08 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর তলানিতে পৌঁছানো বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আগামী দিনে ভালোর দিকেই যাবে বলে আশাবাদী ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

তিনি বলেছেন, "আমি বলতে পারি, কনফিডেন্টলি বলতে পারি, এমন কোনো ইস্যু নাই যা আমরা বসে সলভ করতে পারি না।"

সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ত্রিবেদী। তার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভারতের হাই কমিশনার বলেন, “আমি খুবই আনন্দিত। উনার সঙ্গে আমার দেখা হল। আর দেখা হওয়ার সাথে সাথে মনে হয়নি যে প্রথমবার আমি দেখা করছি। খুবই ভালো, খুবই হাম্বল, অন দ্যা গ্রাউন্ড।”

হাই কমিশনার আশা প্রকাশ করেন, “আমার মনে হচ্ছে, আগামী দিন ভালোই হবে।”

আলোচনার মধ্যে দিয়ে সব সমস্যার সমাধান করার আশা প্রকাশ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “পিপল টু পিপল আলোচনা হবে। উই আর লুকিং ফরওয়ার্ড। আমি আগেও বলেছি, ভারতের জনগণ এবং প্রধানমন্ত্রী সামনের দিকে তাকিয়ে আছেন এবং আমরা ইতিবাচক। 

“দুজন লিডার একসাথে বসলে আলোচনা হবে। ডেমোক্রেসিতে ইস্যুজ থাকবে। ইস্যু না থাকলে ওইটা ডেমোক্রেসি না।"

তিনি বলেন, “আমাদের ইস্যু হবে, বাংলাদেশের ইস্যু হবে, কিন্তু মানুষের ইস্যু একটাই, সেটা ভালো সম্পর্ক।

"আর সম্পর্ক ভালো হলে.... আমাদের যা সিচুয়েশন হিস্টোরিক্যালি, ওটা তো আপনি বদলাতে পারবেন না। নেইবার তো বদলাতে পারবেন না।"

হাই কমিশনার বলেন, “ইস্যুটা সর্ট আউট করতেই হবে। আই অ্যাম ভেরি কনফিডেন্ট, আই অ্যাম ভেরি ভেরি কনফিডেন্ট।”

পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান মতপার্থক্যের সমাধানে ‘আন্তরিকতার সাথে’ এগিয়ে আসতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, “দুই দেশের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য বা ইস্যু রয়েছে. যেগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। সমতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দু'দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে। তবে এ বিষয়ে ভারতকে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ নানাদিক থেকে বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। 

“অতীতকে পেছনে ফেলে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে একটি নতুন সূচনা বা ফ্রেশ স্টার্ট জরুরি।”

দুই দেশের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য বা ইস্যু রয়েছে, যেগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

“আমরা কেবল ভৌগোলিক সীমানা ভাগাভাগি করি না, আমরা সমৃদ্ধির স্বপ্নও ভাগাভাগি করি।,” বলেন ত্রিবেদী।

গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা ‘স্বাভাবিক’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ইস্যু থাকাটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য; ইস্যু না থাকলে সেটা প্রকৃত গণতন্ত্র হতে পারে না।”