Published : 19 Jul 2026, 07:23 PM
নারীর লাশের ময়নাতদন্তের জন্য নারী ডোম কেন নিয়োগ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট ।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের বেঞ্চ রোববার এ রুল জারি করে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
জনস্বার্থে এই রিট আবেদন করেন আইনজীবী মো. মনির উদ্দীন। আবেদনের পক্ষে তিনিই শুনানি করেন।
শুনানি শেষে মনির উদ্দীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত ১৩ মে আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে একটা রিপ্রেজেন্টেশন (আবেদন) দিয়েছিলাম যে, বাংলাদেশে রোড অ্যাক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় যেসব নারী মারা যান, তাদের কেন নারী ডোম দিয়ে পোস্টমর্টেম করা হবে না?
“এরপর ওই রিপ্রেজেন্টেশনের কোনো ফিডব্যাক না পেয়ে গত ৩০ জুন একটি রিট দায়ের করি। আজকে সেটির শুনানি শেষে আদালত রুল ইস্যু করেছেন।”
নারী ডোমের প্রয়োজনীয়তা ও পুরুষ ডোমের মাধ্যমে ‘লাশ বিকৃতির’ প্রসঙ্গ তুলে এই আইনজীবী বলেন, “পোস্টমর্টেমের ক্ষেত্রে কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ সালের ২০ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে মুন্না ভগত নামের একজন লাশের সাথে ধর্ষণ করে। এছাড়া ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এক মৃত তরুণীর সাথে ডোম আবু সাঈদের রেপের ঘটনা ঘটে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও ১০০ লাশের সাথে ধর্ষণের কাজ করেছে কেনেথ ডগলাস নামের এক লোক।”
দেশে পর্যাপ্ত নারী ডোম পাওয়া যাবে কি না— এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অলরেডি পশ্চিমবঙ্গে নারী ডোম নিয়োগ হয়েছে। একসময় বাংলাদেশে স্কুল-কলেজে নারীর সংখ্যা কম থাকলেও, এখন সব জায়গায় নারীরা এগিয়ে গেছে। নার্স থেকে ডাক্তার— সব জায়গায় মহিলারা নিয়োগ পাচ্ছে। সুতরাং সার্কুলার দিলে অবশ্যই নারী ডোম পাওয়া যাবে।”
নারী লাশের ময়নাতদন্ত পরিচালনার বিষয়ে নির্দেশিকা তৈরি করতে প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে বিবাদীদের ‘নিষ্ক্রিয়তাকে’ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, সেই মর্মে রুল চাওয়া হয় এই রিট আবেদনে।
সেইসঙ্গে আইন অনুযায়ী মৃত নারীদের মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার্থে যেখানে সম্ভব সেখানে নারী কর্মীদের (ডোম) দিয়ে ময়নাতদন্ত করার পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়।
রিট আবেদনে বলা হয়, পুরুষ ডোম বা ময়নাতদন্তকারী সহকারীকে দিয়ে মৃত নারীদের ময়নাতদন্ত করার চর্চা “অসংবেদনশীল, যা ধর্মীয় মর্যাদা, গোপনীয়তা এবং মৃতের প্রতি সম্মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে।”