Published : 12 Dec 2025, 11:49 PM
বাউল আবুল সরকারের গ্রেপ্তারসহ মাজার-দরবারে হামলার ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে দুই উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছে ‘আক্রান্ত ও ফ্যাসিবাদবিরোধী জনগণের প্রতিরোধ যাত্রা' শীর্ষক সমাবেশ থেকে।
শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ সমাবেশে সভাপ্রধানের বক্তব্যে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, “সমাজের মধ্যে ক্রমান্বয়ে বৈষম্যবাদীর তৎপরতা, সন্ত্রাসী হামলা, মব সন্ত্রাসী হামলা দিন দিন বাড়ছে। সারা দেশে শত শত মাজার, বাউল গানের আসর, বাউল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উপর হামলা চলছে। দেশে স্বার্থবিরোধী চুক্তি করা হচ্ছে।
"সম্প্রতি নির্বাচনের তফসিল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ হলে সরকার তা দমন করবে। আমরা বরং সরকারের কাছে দাবি জানাতে চাই, তারা যেন এমন ঘটনা এবং জনস্বার্থবিরোধী তৎপরতা পৃষ্ঠপোষকতা না করে, যাতে জনগণের মধ্যে বিক্ষোভ তৈরি হয়। জনগণবিরোধী ঘটনা জনগণের মধ্যে বিক্ষোভ তৈরি করবেই, আজকের প্রতিরোধ যাত্রা সেই বিক্ষোভের অংশ।"
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘মতদর্শ যাই হোক, কারো ওপর সন্ত্রাসী হামলা কাম্য নয়। প্রত্যেকের নিজ মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। যারা গণতান্ত্রিকতায় বাধা সৃষ্টি করে, তারাই সন্ত্রাসী হামলাগুলো করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, এসব তৎপরতায় পৃষ্ঠপোষকতার বদলে দ্রুত অপরাধীকে বিচার ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হোক।"
মুক্তিযুদ্ধকে হেয় করার অভিযোগ তুলে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস। যারা মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করতে চায়, তারা জনস্বার্থবিরোধী। ১৯৭১ পাকিস্তানের সশস্ত্র আক্রমণ ও কতিপয় সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীকে এই দেশের জনগণ প্রতিরোধ করেছে।
“১৯৭১ সালে মুক্তির সংগ্রাম শুরু হয়নি, শেষও হয়নি। জনগণের শত শত বছরের মুক্তির সংগ্রামের এক গণজোয়ার ছিল মুক্তিযুদ্ধ। এরপর আরও খন্ড খণ্ড গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে। জুলাই ২৪ এও আমরা সেই পরম্পরায় ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দেখেছি।"
সাংস্কৃতিক সমাবেশের শুরুতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর স্মরণে নিরবতা পালন করা হয়।
পরে গণসাংস্কৃতিক ঐক্য এবং উদীচীর শিল্পীরা দলীয় সঙ্গীত পরিবেশনা করেন। একক আবৃত্তি পরিবেশনা করেন শামসুজ্জামান মিলন। আবৃত্তি ফেডারেশন দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে।
বটতলা এবং প্রাচ্যনাট দুটি নাটক মঞ্চস্থ করে। বাংলাদেশ বাউল সমিতির পক্ষ থেকে বাউল আলমাস সরকার, সুজন সরকার, মিলন সরকার ও গোলাম মোর্শেদ মিরণ বাউলসঙ্গীত পরিবেশনা করেন।
সাংস্কৃতিক সমাবেশ পর্ব শেষে একটি মশাল মিছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত যায়।
মশাল মিছিল শেষে সমাপনী বক্তব্য রাখেন বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লাল্টু।
বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক আমীরুন নুজহাত মণীষা নয় দফা দাবি পাঠ করেন।