Published : 16 Aug 2026, 11:45 PM
চাঁদাবাজির অভিযোগে সাভার মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন হয়েছে।
রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাবুবুর রহমানের আদালতে সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকার বাসিন্দা সুরাইয়া বেগম এ আবেদন করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী হরে কৃষ্ণ বলেন, “আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেকেশন (পিবিআই)- কে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে।
অন্য দুই আসামি হলেন- মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামির এবং সাদ্দাম হোসেন। মামলায় অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে সুরাইয়া বেগমের ছেলে শামীম রেজার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। গত ২২ মে আসামিরাসহ আরও ৭/৮ জন শামীমের রিক্সার গ্যারেজে গিয়ে ৩৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গ্যারেজে ভাংচুর করে ১২ লাখ টাকার ক্ষতি করে। সেখানে থাকা নগদ ৯০ হাজার টাকা এবং ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ১০ জুন মিথ্যা মামলায় শামীম রেজাকে গ্রেপ্তার করে সাভার মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় এসআই নেয়ামত উল্লাহ তাকে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের ভয় দেখায়। পরে শামীম ও তার স্ত্রীকে বিভিন্ন মামলা, গ্রেপ্তার এবং পরোয়ানা সংক্রান্ত হয়রানি থেকে রক্ষার কথা বলে নিয়ামত উল্লাহ ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। শামীমের পরিবার দুই দফায় তাকে সাড়ে চার লাখ টাকা দেয়।
শামীমের স্ত্রীর কাছেও নেয়ামত উল্লাখ ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। শামীমকে রিমান্ডে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার থেকে রক্ষা করতে পরিবারের কাছে দুটি আইফোন চান এ পুলিশ কর্মকর্তা। চার লাখ ৩৪ হাজার টাকায় তাকে ফোন কিনে দেয় শামীমের পরিবার। তবে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স পছন্দ হয়নি নিয়ামত উল্লাহর। ১৪ জুন বসুন্ধরার মোবাইল ফোনের দোকান থেকে ফোন দুটি পরিবর্তন করে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ওয়ার টেরাবাইট নিজের নামে করে নেন তিনি।
সুরাইয়া বেগম তার ছেলের সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে গিয়ে জানতে পারেন, নিয়ামত উল্লাহ তার ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার তিনটি মোবাইল ফোন, ৪২ হাজার টাকা মূল্যের একটি আংটি এবং নগদ ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। এ কথা ফাঁস হলে নিয়ামত উল্লাহ তিনটি মোবাইল ফোন ফেরত দেন। তবে টাকা ও আংটি রেখে দেন। নিয়ামত উল্লাহ কৌশলে শামীমের অন্তরঙ্গ অঙ্গভঙ্গির ছবি তুলে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা দাবি করে ৭৩ হাজার টাকা নেয়। গত ২৬ জুন অপর দুই আসামি শামীমের বাড়িতে গিয়ে আগের চাওয়া ৩৮ লাখ টাকা দাবি করে।
এ বিষয়ে সুরাইয়া বেগম সাভার মডেল থানায় মামলা করতে যান। তবে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নেওয়ায় আদালতের দ্বারস্ত হন মর্মে অভিযোগে বলেছেন তিনি।
এসআই মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহকে ঘিরে এর আগেও ঘুষ, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের একাধিক অভিযোগ আছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবরও হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন বলেও জানা যায়।