জামানত-ভোটের ব্যয় বাড়িয়ে ইউপি নির্বাচন বিধির সংশোধনের গেজেট জারি
নির্দলীয় এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২০টি, সাধারণ সদস্য পদে ১২টি ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০টি মার্কা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এক লাফে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামানত পাঁচগুণ বাড়ানো হয়েছে; চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয় ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ব্যয় ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।
এসব পরিবর্তন এনে বুধবার স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০ এ সংশোধনী এনে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সংশোধন অনুযায়ী, এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন ইসি ইউপি পদে প্রার্থীদের জামানত আগের তুলনায় পাঁচগুণ এবং ভোটের ব্যয় দুই গুণ বাড়ানো হয়েছে।
সেই সঙ্গে প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্তে ১৫% ভোট না পাওয়া, মনোনয়নপত্রে চেয়ারম্যান পদে ভোট করতে ১২ ডিজিটের টিআইএন সনদ ও আয়কর রিটার্নের কপি যুক্ত করা, ভোটে অনিয়মে ব্যবস্থা নিতে ইসির ক্ষমতা বাড়ানো, সংসদের মতো করে ইউপি ভোটে হলফনামায় তথ্য স্পষ্টীকরণ, নির্দলীয় ভোটের প্রতীক সংরক্ষণসহ একগুচ্ছ সংশোধনী আনা হয়েছে।
দীর্ঘ এক দশক পর এবার নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হবে ইউনিয়ন পরিষদে। চেয়ারম্যান পদে আগে নিবন্ধিত দলের প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য মার্কা বরাদ্দ ছিল; এবার চেয়ারম্যান পদে ২০টি প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে সংশোধিত বিধিমালায়। এছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ১২টি ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০টি প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে।
আগামী বছরের শুরুতে ইউপি নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে; এরপর ধাপে ধাপে সাড়ে চার হাজার ইউপির নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
ইউপিতে ভোটের মার্কা
আগে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও এবার ইউপি নির্বাচন হবে নির্দলীয় প্রতীকে। বিধিমালায় চেয়ারম্যান পদের জন্য ২০টি, সাধারণ সদস্য পদে ১২টি ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০টি মার্কা বা প্রতীক চূড়ান্ত করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান পদের প্রতীক- কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবি টেক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটর সাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।
সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের প্রতীক- আলমিরা, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার।
সাধারণ সদস্য পদের প্রতীক- উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।
যেসব সংশোধন এল
>> জামানত - চেয়ারম্যান প্রার্থীর ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ৫ হাজার টাকা। কোনো প্রার্থীর পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করা হলেও একাধিক জামানতের প্রয়োজন হবে না। আগে জামানত ছিল চেয়ারম্যান ৫ হাজার টাকা ও সদস্য এক হাজার টাকা।
>> প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
>> চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয় ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জন্য ২ লাখ টাকা। আগে চেয়ারম্যানের ৫ লাখ ও সদস্যের ভোটের ব্যয় ২ লাখ টাকা ছিল।
>> বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কমিশনের ক্ষমতা বাড়িয়ে প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে।
>> কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অপকর্মের কারণে চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। প্রযোজনে নির্বাচন বাতিল করে পুনভোটের ব্যবস্থা নেবে ইসি।
>> দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধী কিংবা অন্য কোনো কারণে সহায়তার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। ভোটারকে ভোটদানে সহায়তার জন্য কমপক্ষে ২১ বছর বয়সি একজন ব্যক্তি নেওয়া যাবে; ভোটার ব্যালট পেপারে নিজে চিহ্ন দিতে না পারলে তার নির্দেশনা অনুযায়ী সহায়তাকারী চিহ্ন দিতে পারবেন। তবে ওই সহায়তাকারী কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হতে পারবেন না।
>> গণমাধ্যকর্মীকেও বাধা দিলে শাস্তির বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
>> ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো মনিটরিং করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে কমিশন।
>> এছাড়া কিছু করণিক ভুল, প্রতীকের তালিকা থেকে দলীয় প্রতীক বাদ, স্বতন্ত্রদের প্রতীক ববাদ দিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য প্রতীক সংসক্ষণ, মনোনয়ন পত্রের ফরম, হলফনামার সংযুক্তিসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আরও কিছু সংশোধন আনা হয়েছে।
ইউপি নির্বাচন: দেড় দশক পর বাড়ছে প্রার্থীর জামানত ও ভোটের ব্যয়
