Published : 03 Aug 2026, 06:16 PM
আবেদন না করেও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) পদে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী মো. মাহফুজুর রহমান যোগদান না করেই পদত্যাগ করেছেন।
সোমবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
গত ৩০ জুলাই মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে ১৭৯ জনকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই তালিকায় ১৪৬ নম্বরে মাহফুজুর রহমানের নাম ছিল।
তবে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি ওই পদে যোগদান করেননি।
মাহফুজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এএজি পদে নিয়োগের জন্য তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কোনো কাগজপত্র জমা দেননি। তবে অন্য একটি পদের জন্য তার আবেদন করা ছিল।
আবেদন করে না থাকলে পদত্যাগ করলেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, "গেজেট হলে জয়েন না করলে পরে জয়েন করা যাবে, এই কারণে ওই জায়গাটা ক্লিয়ার করে দিয়েছি।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নবনিযুক্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের প্রথম কর্মদিবসে মাহফুজুর রহমান আমার সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানিয়ে বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের জন্য তিনি আবেদন করেননি, তবে কোনোভাবে তার নাম তালিকায় এসেছে।
“আমি তাকে বলেছি, যেহেতু তিনি আবেদন করেননি, সেহেতু আইনগতভাবে তিনি এই অফিসে যোগদান করতে পারেন না। তিনি বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভুলক্রমে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি কোনো সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা না করে শুরুতেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “তিনি আমাকে জানিয়েছেন, বিষয়টি তার নজরে আসার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং আইন মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে লিখেছেন যে তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে পারবেন না।”
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার জন্য হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়। ফলে কাউকে ওই পদে নিয়োগ দিতে হলে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে অথবা কোনো বিচার বিভাগীয় পদে তার ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
আর সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার জন্য হাই কোর্টে অন্তত পাঁচ বছরের আইন পেশার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।
অথচ মাহফুজুর রহমান হাই কোর্টে আইনজীবী হিসেবে নামই লিখিয়েছেন গত বছরের ১ জুন। অর্থাৎ, যোগ্যতার শর্ত পূরণ না হলেও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
মাহফুজুর রহমানের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
পদত্যাগের কারণে শূন্য হওয়া পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টিসাপেক্ষে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগ পান। সরকার প্রয়োজন মনে করলে ওই জায়গায় এক বা একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে পারে, আবার প্রয়োজন না মনে করলে নাও দিতে পারে।”