১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘লাপাত্তা’ কেবিন ক্রু মীর্জা আদনান আমিরাতের পুলিশ হেফাজতে

কোন অভিযোগে বা সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো ব্যাখ্যা দেয়নি আমিরাত কর্তৃপক্ষ।

মাছুম কামাল মাছুম কামাল

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jul 2026, 01:03 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:44 PM

সংযুক্ত আরব আমিরাতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পাঁচ দিন ধরে ‘লাপাত্তা’ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু মীর্জা আদনান দেশটির সিআইডি পুলিশের আবুধাবি শাখার হাতে আটক হয়েছেন।

ঠিক কোন অভিযোগে বা সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো ব্যাখ্যা দেয়নি আমিরাত কর্তৃপক্ষ।

বিমানের জনসংযোগ শাখার ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মহিউদ্দিন সোমবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওই কেবিন ক্রু ফ্লাইট পরিচালনা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে ইমিগ্রেশন তাকে আটক করেছে।”

তাকে আটকের কারণ কি প্রশ্নে মুহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, “কি কারণে আটক করা হয়েছে সে তথ্য ইমিগ্রেশন দেয় না। তারা ভেতরগতভাবে তদন্ত করে তাকে ছেড়ে দেবে অথবা যদি কোনো অপরাধ করে থাকে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।”

এ বিষয়ে বিমানের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা আমি ফ্লাইট অপারেশন্স বিভাগে খবর নিয়ে দেখছি। এ মুহূর্তে আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।”

ফ্লাইট অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক ক্যাপ্টেন এ কে এম আমিনুল ইসলামের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি এখনো কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। পরে বিমানের জনসংযোগ শাখা এবং পরে কাস্টমার সার্ভিস বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন৷ 

বিমানের শারজাহ স্টেশনের একটি সূত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছে, গত ২২ জুলাই ডিউটিতে গিয়ে শারজাহ এয়ারপোর্ট থেকে ‘নিখোঁজ’ হন কেবিন ক্রু মীর্জা আদনান। পরে জানা যায়, বিমানের বিজি-১৫১ ফ্লাইট পরিচালনার পর শারজাহ বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ মীর্জা আদনানকে আটক করে।

পরে অধিকতর তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে শারজাহ থেকে আবুধাবি সিআইডি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মীর্জা আদনান তাদের হেফাজতেই রয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে বিমানের শারজাহ স্টেশনের ব্যবস্থাপক জাকির হোসাইন বলেন, “তাকে শারজাহ সিআইডি পুলিশ আটক করে আবুধাবি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করেছে। বিষয়টি নিয়ে পরে আবুধাবির থানা থেকে বিমানের আবুধাবি স্টেশন এবং বাংলাদেশ দূতাবাসেও যোগাযোগ করা হয়েছে। দূতাবাস বিষয়টিতে অবগত আছে।

“আমি শারজাহ এয়ারপোর্টে কর্মরত পুলিশ, ইমিগ্রেশনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। কি কারণে ওই কেবিন ক্রুকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা কোনো তথ্য দেয়নি। হয়ত শিগগির কোনো আপডেট পাবেন।”

বিমানের আবু ধাবি স্টেশনের ব্যবস্থাপক আনোয়ার উল ফিরদাউস বলেন, “গতকাল (সোমবার) আমরা এয়ারপোর্টে গিয়েছিলাম। আবুধাবি এয়ারপোর্ট অথরিটি এবং এখানকার এয়ারপোর্টের সিআইডির সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি, কথা বলেছি। এরা কোনো কিছুই বলতে রাজি না।

“ওরা আমাদের বলেছে, সময়মত সব কিছু জানাবে৷ আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসেও আমরা বিষয়টি জানিয়েছি। ওরাও এটা মনিটরিং করছে৷”