১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মানবাধিকার কমিশনের খসড়া নিয়ে আরও আলোচনার দাবি ব্লাস্টের

“মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতাকে যদি সংকুচিত করা হয়, তাহলে ওই তদন্তের কোনো মানে নেই,” বলেন নূর খান লিটন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Aug 2026, 11:33 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:53 PM

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর খসড়া জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস না করে আরও আলোচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।

সংস্থাটির মতে, খসড়ায় কমিশনের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখার বদলে সরকারি ‘নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে’।

সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মতবিনিময় সভায় ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন বলেন, “আমরা দেখতে চাই না যে সংসদে গিয়ে এটা কণ্ঠভোটে পাস হয়ে যায়। কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন সংগঠন, সংস্থা, ব্যক্তি তাদের পর্যালোচনা করছেন।

“তাদের কথাকে যদি গুরুত্ব দেওয়া যায়, তাহলে আমার মনে হচ্ছে আমরা এই আশাটা রাখতে পারি যে সংসদে যারা আছেন, তারা আরো আলোচনা করবেন এই খসড়া আইনটা নিয়ে।”

আইনের বর্তমান খসড়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী বলেন, “তাদের (আলোচকদের) যে অভিজ্ঞতা, তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন তারা নিজেরাই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। হয়রানির শিকার হয়েছেন। তারা বুঝবেন যে কেন এরকম আইনটি তাদের কোনো কাজেই লাগবে না।”

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রাক্তন সদস্য নূর খান লিটন বলেন, “মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতাকে যদি সংকুচিত করা হয়, তাহলে ওই তদন্তের কোনো মানে নেই। আপনি যদি কমিশনের স্বাধীনতার বিষয়টা তোলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হচ্ছে তার তদন্ত করার ক্ষমতাটা।”

তদন্ত ও কমিশন গঠনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, “তদন্ত করার আগের, পরের, তদন্তকালীন সময়ে পরিদর্শনের যে ক্ষমতা—যদি সর্বক্ষেত্রে প্রাক-অনুমোদনের বিষয়টা থাকে, তাহলে এখানে আপনি খুব বেশি আগাতে পারবেন না।

“কাস্টোডিয়াল ডেথ বা ক্রসফায়ারের নামে, কোট-আনকোট ক্রসফায়ারের নামে হত্যাকাণ্ড, এইসব বিষয়ে আপনি যদি আপনার পূর্ণ স্বাধীনতাটা না থাকে কাজ করার, সেক্ষেত্রে আপনার জেতার কোনো সম্ভাবনা নাই।”

লিটন বলেন, “আইন যেমন আমাদের দরকার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করার, পাশাপাশি আমাদের সেরকম একটি কমিশন গঠন করতে হবে, বাছাই করতে হবে—যারা কিনা সৎ, সাহসী, যোগ্যতাসম্পন্ন। নাহলে স্বাধীন কমিশন গঠনও করতে পারবেন না।”

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এই কমিশন কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকবে না—এই কথাটি কিন্তু নেই। বলা হয়েছে যে তারা স্বাধীন নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে, কিন্তু সেটাও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।

“অর্থাৎ যেটা আমরা চেয়েছিলাম, দেশবাসী চেয়েছিল যে এইটা সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করবে—সেই এক্সপ্লিসিট কমিটমেন্টটা কিন্তু দেওয়া হয়নি।”

নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, চরচার সম্পাদক সোহরাব হাসান, ওয়াইপিএসএর ইনক্লুশন অ্যাডভাইজার ভাস্কর ভট্টাচার্য, ব্লাস্টের প্যানেল আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল, গবেষক ও মানবাধিকার কর্মী নওশীন নূরও সভায় বক্তব্য দেন।