Published : 19 Mar 2026, 12:55 PM
ঈদুল ফিতরে ঈদের জামাতের জন্য রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ প্রস্তুত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে অংশ নেবেন।
এই জামাত হবে ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টায়।
শনিবার জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শনের পর স্থানীয়সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “এইবারের ঈদগাহ ময়দানের ঈদের নামাজটা স্বাভাবিক কারণে একটু ঐতিহাসিক হবে। কারণটা হচ্ছে এজন্য যে, এখানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ঈদের নামাজ আদায় করবেন এবং দীর্ঘদিন পর সারা বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম ঈদুল ফিতর উদযাপন হচ্ছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায়ের সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
“দীর্ঘদিন পর জাতি মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে এই ঈদে একসঙ্গে দুইজনকে নামাজ পড়ার জন্য দেখবেন।”
ঢাকা সিটি করপোরেশনের আয়োজনে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রধান জামাতের প্রস্তুতির দেখতে সকালে জাতীয় ঈদগাহে আসেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম।
এ সময়ে স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, প্রধান মন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার ছিলেন। তারা পুরো ঈদগাহ ঘুরে দেখেন।
‘প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়’
ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, “সকাল সাড়ে ৮ টায় জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এবার আমি সানন্দের সাথে ঘোষণা করছি যে, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আমাদের সাথে একসাথে জামাতে নামাজ পড়বেন। আমরা আশা করি আমাদের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবর্গসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যারা আছেন তারাও এখানে নামাজ পড়বেন।”
জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের নামাজের ব্যবস্থা আছে। পাশাপাশি মহিলাদের জন্যও নামাজের ব্যবস্থা আছে। রাখা হয়েছে ওযুর ব্যবস্থাও।
জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাতে অংশ নিতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রশাসক।
স্থানীয়সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, পুরুষ ও মহিলা মিলে প্রায় ৪০ হাজার এখানে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবে। মহিলাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে তা ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার বৈঠক করে পরে গণমাধ্যমকে জানাবেন বলে বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।
ঈদগাহের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “ভিভিআইপির নিরাপত্তার জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স-এসএসএফের সদস্যরা কাজ করছেন।”
‘ভিন্ন সাজে জাতীয় ঈদগাহ’
ঈদের জামাতের জন্য জাতীয় ঈদগাহের চারপাশ পরিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। প্রধান ফটকের সামনে নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে তোরণ যেখানে লেখা রয়েছে, ‘ও মন রমজানে ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। ঈদ মোবারক।’
পুরো ঈদগাহ মাঠ ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে, বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে কার্পেট। পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থাও রেখেছে সিটি করপোরেশন।
ওযুর জায়াগায় সারি সারি পানির ট্যাপ বসানো হয়েছে নতুন করে, রাখা হয়েছে সুপেয় পানির ব্যবস্থা।
জাতীয় ঈদগাহে পুলিশ ও র্যাবের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের একটি টিমও জাতীয় ঈদগাহের কাছে থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসক।
জাতীয় ঈদগাহের প্রবেশ পথ দুইটি। ভিভিআইপিদের প্রবেশের জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন দিয়ে আলাদা একটি গেইট করা হয়েছে। এছাড়া মহিলাদের প্রবেশ পথও আলাদা করা হয়েছে।