Published : 14 Aug 2026, 08:17 PM
‘নিচের সারিতে হাত না দিয়ে’ ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গডফাদারদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে র্যাব।
এর ফলে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় ‘অনেকটাই স্থিতিশীল’ বলে মনে করছেন র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
শুক্রবার বিকালে ঢাকার কারওয়ানবাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদপুরের ‘কিশোরগ্যাং লিডার’ অ্যালেক্স ইমন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি জহিরুল ইসলাম ওরফে রিপোল ওরফে বিপুলসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।
নয়মুল হাসান বলেন, “আমরা তো গডফাদারদের গ্রেপ্তার করছি, খুব বেশি নিচের কাউকে বা খুব বেশি ব্রাঞ্চগুলোতে হাত দিচ্ছি না। আমরা গডফাদারদেরকে গ্রেপ্তার করছি দেখেই মোহাম্মদপুর আগের তুলনায় অনেকটা স্থিতিশীল।”
অদূর ভবিষ্যতে মোহাম্মদপুর আরো বেশি ‘নিরাপত্তা প্রিয়’ হবে এবং সবাই নিরাপদে মোহাম্মদপুরে বসবাস করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন র্যাব-২ অধিনায়ক।
তিনি বলেন, “মোহাম্মদপুর নিয়ে যে হাইপ, মোহাম্মদপুর আসলে ‘সিটি অব গড’, এটা-সেটা অনেক অনেক কথা বলা হয়। এগুলো আসলে একটা হাইপ। এগুলো থেকে আমরা মোহাম্মদপুরকে বের করে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। অনেকটা নিয়ে এসেছি, নিকট ভবিষ্যতে একেবারে নির্মূল করে ফেলব আশা করি।”
এর আগে অ্যালেক্স ইমনকে হত্যা মামলার ৭ নম্বর আসামি জহিরুলসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেন তিনি।
গেল ১২ এপ্রিল মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে এ ঘটনায় ২০ জনের নামে মামলা হয়েছিল।
গ্রেপ্তার বাকি চারজন হলেন, মো. হৃদয়, সুজন, সোহেল ওরফে চায়না সোহেল, রাব্বী ওরফে পিঞ্জিরা রাব্বী।
শুক্রবার ঢাকার মোহাম্মদপুর এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, ছয় রাউন্ড গুলি এবং সাতটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানায় র্যাব।
অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল এ বিষয়ে বলেন, “ইমন হত্যার ঘটনায় মামলা হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এজাহার নামীয় ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। সবশেষ জহিরুলকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলার ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।”
শুক্রবার গ্রেপ্তার জহিরুলের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা ও দস্যুতার দুটি, মাদকদ্রব্য আইনে দুটি, দ্রুত বিচার আইনে একটি এবং কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানায় চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি মামলা রয়েছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
এর বাইরে সুজনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দস্যুতা ও ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণের সাতটি এবং ফরিদপুর ভাংগা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা রয়েছে।
সোহেলের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দস্যুতা, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি দেখানোর চারটি মামলা রয়েছে।
হৃদয়ের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দস্যুতা ও খুনের দুটি এবং কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানায় চুরি, দস্যুতা, হত্যাচেষ্টা, ভয়ভীতি দেখানোর একটি মামলা রয়েছে।
আর রাব্বীর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি, দ্রুত বিচার আইনে একটি, হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি দেখানোর দুটি মামলা রয়েছে।