Published : 05 Aug 2026, 01:26 PM
বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থায় সমন্বিত ও মৌলিক সংস্কারের আহ্বান এসেছে এক গোলটেবিল বৈঠকে।
সোমবার রাজধানীর পিকেএসএফ ভবনে নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী, উন্নয়নকর্মী, শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ওই গোলটেবিল বৈঠক হয়। ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও পিকেএসএফের যৌথভাবে এর আয়োজন করে।
আলোচকরা বলেন, কর্মসংস্থান উপযোগী গ্র্যাজুয়েট এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে বিদ্যমান অসামঞ্জস্য যে বাংলাদেশের জনমিতিক সুবিধা (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) কাজে লাগানোর অন্যতম বড় বাধা, তা উঠে আসে তাদের আলোচনায়।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, শিল্পখাতনির্ভর এবং চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, কারিগরি বা ভোকেশনাল শিক্ষার প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।
"একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও দক্ষতার স্বীকৃতিতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে আরও কার্যকর প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন।"
বিদেশগামী কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং তাদের অধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ প্রদানের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ ছাড়া স্বল্পমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিকেএসএফকে বিবেচনা করার আহ্বান জানান ফজলুল কাদের।
পিকেএসএফের রাইজ প্রকল্পের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার কাজী মশরুর-উল-আলম বলেন, দেশে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে উঠলেও দক্ষতা উন্নয়নকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে কার্যকরভাবে সংযুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেম এখনো তৈরি হয়নি।
একই প্রকল্পের শিক্ষানবিশ আশফাকুর রহমান প্রশিক্ষণ শেষে কীভাবে হুন্দাই বাংলাদেশে সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন, সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
বিশ্ব ব্যাংকের এ প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার আনিকা রহমান বলেন, প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন। তাই প্রচলিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির গণ্ডি পেরিয়ে দক্ষতা উন্নয়ন থেকে কর্মসংস্থান পর্যন্ত একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা প্রয়োজন।
আলোচনায় বক্তারা দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, কার্যকর শ্রমবাজার তথ্যব্যবস্থা, শিল্পখাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ, কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ, বিদেশগামী কর্মীদের জন্য ভাষা প্রশিক্ষণ এবং মেশিন লার্নিং, শিল্প স্বয়ংক্রিয়করণ (ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন) ও থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মতো উদীয়মান প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
তাদের মতে, টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা জোরদারে সমন্বিত, চাহিদাভিত্তিক ও শিল্পখাতনির্ভর দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।
অন্যদের মধ্যে ওয়েজ আর্নার্স' ওয়েলফেয়ার বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক এটিএম মাহবুব-উল-করিম, ইউসেপ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুল করিম, ইএসডিও-এর নির্বাহী পরিচালক মো. শহীদ উজ জামান, পিকেএসএফের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য অধ্যাপক মো. তৌফিকুল ইসলাম, পিকেএসএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিয়ার রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব ও এসআইসিআইপির নির্বাহী প্রোগ্রাম পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), ব্র্যাক, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশ নেন।