Published : 08 Jan 2026, 01:06 PM
বাংলাদেশ যাতে আবার ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায়’ ফিরে না যায়, সেজন্যই এবারের গণভোট হচ্ছে বলে দাবি করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণভোট বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতে বুধবার কৃষি বিভাগের ১৭ হাজার কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীর জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার আরেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং আওতাধীন সকল দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরা ভার্চুয়ালি এ সভায় অংশ নেন।
আলী রীয়াজ বলেন, গণভোটের এই সুযোগ আগামী ৫ বছর বা ১০ বছরে আর আসবে না।
“ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, তা ঠিক করে দেওয়ার এই সুযোগকে কাজে লাগাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ গণভোট-সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্বেও আছেন।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জনগণের সঙ্গে আপনাদের যে যোগাযোগ আছে, তার মধ্য দিয়ে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
"২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও বিগত ১৬ বছরের সংগ্রামে হাজারো মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। তারা প্রাণ দিয়ে আমাদের এই দায়িত্ব দিয়ে গেছেন—এমন ব্যবস্থা করার, যেন আমরা আগের সেই অবস্থায় ফিরে না যাই।"
আলী রীয়াজ বলেন, "'গণভোটকে আপনারা মানুষের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করুন।”
মানুষের কাছে যেন বিষয়টি সহজবোধ্য হয়, সে জন্য গণভোটকে ‘হ্যাঁ-না ভোট’ হিসেবে উপস্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি।
পাশাপাশি গণভোটের ফলে কী কী পরিবর্তন আসবে, তা সময় নিয়ে মানুষকে বুঝিয়ে বলার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন আলী রীয়াজ।
মনির হায়দার বলেন, “আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই।”
গত ৫৪ বছরেও ‘অতি সাধারণ’ এই আকাঙ্ক্ষা পূরণে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বিগত ১৬ বছরের শাসন ও জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা সবাই উপলব্ধি করেছি যে, এই শাসন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার একটি বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।”
আগামীতে ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা’ আবার যেন ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করতে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান মনির হায়দার।
এ সময় তিনি গণভোট বিষয়ে জনমত সৃষ্টির জন্য প্রস্তুত লিফলেটের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো কর্মকর্তাদের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ বলেন, “গণভোট বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তুলতে মন্ত্রণালয় ও দপ্তর-সংস্থাগুলো ড্রপ-ডাউন ব্যানার স্থাপন, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লিফলেট প্রস্তুত ও বিতরণ, কৃষি তথ্য সার্ভিসের মোবাইল ভ্যান ও আঞ্চলিক রেডিও সেন্টার থেকে প্রচার, প্রকল্প এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টিতে সভা-সমাবেশ আয়োজনের পাশাপাশি কৃষি বিভাগের ২৪/৭ হটলাইন সার্ভিস গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করবে।”