Published : 16 Apr 2026, 03:57 PM
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত করায় জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
রংপুর-৪ আসনের এ সদস্য বলেন, নির্বাচন পেছানোর কারণ হিসেবে ‘তীব্র জ্বালানি সংকট’কে কারণ দেখানো হলেও সংসদে জ্বালানি সংকটের কথা উঠলে সরকারি দল এমন সংকট না থাকার কথা বলেছে।
বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি জ্বালানি ও আইনমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করেন।
আখতার হোসেন বলেন, “গতকাল মধ্যরাতে আমরা একটা নোটিস পেয়েছি যে—বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। সেই স্থগিতকরণের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট। এই কারণে বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত করা হলো।”
তিনি বলেন, বিষয়টির সঙ্গে দুটি দিক জড়িত। একদিকে এটি একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, যার সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্পর্ক আছে; অন্যদিকে জ্বালানি সংকটের কারণ দেখিয়ে নির্বাচন স্থগিতের কথা বলা হয়েছে।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, আইন অনুযায়ী তিন বছর পরপর বার কাউন্সিলের নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে মহামারী বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এক বছরের জন্য অ্যাডহক কমিটি করার বিধান রয়েছে।
তিনি, কোভিডকালে সেই বিধান প্রয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু তেমন কোনো পরিস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর নির্বাচন না দিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়, যা এখনো বহাল আছে।
সংসদ সদস্য আখতার বলেন, “এই এডহক কমিটি থেকে একটা গণতান্ত্রিক যাত্রায় উত্তোলনের জন্যে একটা নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছিল। আগামী ১৯ মে নির্বাচনটা অনুষ্ঠিত হবে।
“কিন্তু গতকাল মধ্যরাতে হঠাৎ করেই নির্বাচনকে স্থগিত ঘোষণা করা হলো।”
জ্বালানি নিয়ে সরকারের অবস্থান নিয়েও অসঙ্গতি দেখছেন আখতার হোসেন।
“আমরা যখন সংসদে জ্বালানি সংকটের কথা বলি, সরকার দলের তরফ থেকে ‘জ্বালানি সংকট নেই’—এই কথা বলা হয়। আবার সরকারি একটা প্রতিষ্ঠান জ্বালানি সংকটের কথা বলে নির্বাচন স্থগিত করছে।”
তিনি বলেন, “এই জায়গাটাতে একটা সিদ্ধান্ত আসার প্রয়োজন। আসলে কি জ্বালানি সংকটের ইস্যু? নাকি একটা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে রাখা হবে, সেটা মূল ইস্যু।”
ডেপুটি স্পিকার চাইলে এ বিষয়ে জ্বালানি ও আইনমন্ত্রীর কাছ থেকে বিবৃতি চাইতে পারেন বলেও সংসদে বলেন তিনি।
গত ২ এপ্রিল বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে এক সভায় ১৯ মে নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বুধবার রাতে বার কাউন্সিল ভবনে এক জরুরি সভায় ওই নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
কাউন্সিলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “দেশব্যাপী বিদ্যমান তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে আগামী ১৯ মে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে সাধারণ আসনের সাতটি ও আঞ্চলিক আসনের সাতটি পদে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
“এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা আইনজীবী সমিতি ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিসহ দেশের বিভিন্ন বার থেকে নির্বাচন স্থগিতের আবেদন ও অনুরোধ জানানো হয়।”
আখতার হোসেনের বক্তব্যের জবাব দেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, “সংসদে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আনা হয়েছে।”
আইনমন্ত্রী বলেন, আখতার হোসেন তার বক্তব্যে মহামারী ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কথা বললেও আইনে থাকা ‘অন্য যৌক্তিক সঙ্গত কারণ’র বিষয়টি উল্লেখ করেননি।
তিনি বলেন, “উনি সব বুঝেন, এটা যেমন মানি; কিন্তু যতটুকু উনার প্রয়োজন ততটুকু উনি আনেন। এর বাইরেরটুকু আনেন না।”
বার কাউন্সিল নির্বাচন আয়োজনে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই উদ্যোগ নিয়েছিল দাবি করে আইনমন্ত্রী বলেন, “বার কাউন্সিল একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তারা স্বকীয়ভাবে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেন।”
জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে টেনে আনার প্রয়োজন ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, বার কাউন্সিল নির্বাচন পেছানোর পেছনে আরেকটি কারণও ছিল, যা আখতার হোসেন তার বক্তব্যে বলেননি।
তার ভাষ্য, “ঢাকা বারসহ বেশ কয়েকটি বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে বার কাউন্সিলের কাছে অনুরোধ এসেছে। তাদের ওখানে এখন নির্বাচন চলছে। তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া সমুন্নত ও নির্বিঘ্ন রাখার জন্য বার কাউন্সিলের নির্বাচনটা পিছানোর জন্য বলেছেন।”
মন্ত্রী আসাদুজ্জান বলেন, বার অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সেই অনুরোধও রক্ষা করা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, “বার কাউন্সিল নিজস্ব মেধা, প্রজ্ঞা, স্বকীয়তা এবং স্বাধীনতা প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই কারণে সেখানে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করিনি।”
সরকারও চায়, বার কাউন্সিল স্বাভাবিক নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাক।
আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরাও চাই, উনার মতই চাই—বার কাউন্সিল স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”