Published : 03 May 2026, 06:02 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর রিমান্ড শুনানিতে তার আইনজীবীরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ‘চরিত্র’ নিয়ে প্রশ্ন তুললে রাষ্ট্রপক্ষ তাতে আপত্তি জানিয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ এ বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিচারক বলেন, “ভিকটিমের বিচার করছি না।"
মিমোর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামেরর আদালত সুদীপ চক্রবর্তীরর রিমান্ড শুনানি হয়।
গত ২৬ এপ্রিল সকালে নিজের ঘর থেকে ওই শিক্ষার্থীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ওইদিন দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ এনে সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।
ওই মামলায় সুদীপকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা সেদিন সুদীপকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
অন্যদিকে সুদীপের আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
এরপর গত ২৮ এপ্রিল সুদীপ চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই কাজী ইকবাল হোসেন। আদালত আসামির উপস্থিততিতে শুনানির জন্য রোববার দিন রাখে।
সে অনুযায়ী এদিন সুদীপ চক্রবর্তীকে আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট ফুল মোহাম্মদ ও অ্যাডভোকেট আবু সায়েম রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন।
ফুল মোহাম্মদ বলেন, "মামলার পর সুদীপ চক্রবর্তীকে ২৭ এপ্রিল কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৮ এপ্রিল ডিএনএ টেস্টের আবেদন করলে তা মঞ্জুর হয়। ওইদিনই আবার তার তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।
“তদন্ত কর্মকর্তার একদিনের ডেভেলপমেন্ট কী? কোন ডেভেলপমেন্টের ওপর রিমান্ড আবেদন করলেন? ভিকটিমের মায়ের সাথে তার এক বান্ধবীর মোবাইলে কথোপকথন আছে। সেখানে উঠে এসেছে, মেয়েটার আগে একটা বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু নিজের চারিত্রিক গুণাবলীর কারণে সংসার ভেঙে যায়।"
এ আইনজীবী বলেন, "এরপর একটা ছেলের সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু সে অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়ায়। এ খবর শুনে সে (মিমো) তার বান্ধবীকে ফোনে জানায়, গতকাল রাতে ২টা খেয়েছি (ঘুমের ওষুধ), আজ ১৪টা খাব।
“আর তার বান্ধবীর কাছে তার মা জানায়, ক্লাশমেটদের না এনে জুনিয়রদের…। মেয়েটা মেধাবী ছিল, কিন্তু সাইকো ছিল। তার (মিমোর) পরিবার সুদীপ চক্রবর্তীকে বলে, মেয়েটা সাইকো, স্বাভাবিক না। সে যেভাবে বলে, তিনি যেন সেভাবে শোনেন।”
মিমোর বাসা থেকে যে চিরকুট উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে তা ‘মেনিপুলেটেড’ বলে দাবি করেন আইনজীবী ফুল মোহাম্মদ।
তিনি বলেন, “সুদীপ চক্রবর্তী মেধাবী শিক্ষক। ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তাকে এ মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
অ্যাডভোকেট আবু সায়েম বলেন,"ভিকটিম কে ছিল তা তার বান্ধবীর সাথে মায়ের গত অগাস্টের মোবাইল কথোপকথনে উঠে এসেছে। তার বান্ধবী জিজ্ঞাসা করছে, মিমো কি ব্লেড দিয়ে শরীর কাটে। তার মা বলে, ‘হ্যাঁ। ব্লেড লুকিয়ে রেখেছি।’ আরেক ছেলের সাথে সম্পর্কের কথা উঠে আসে। রিমান্ড বাতিল করে প্রয়োজনে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।''
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ২১ মিনিটের ওই মোবাইলের কথোপকথন আদালতে জমা দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন।
তিনি বলেন,"একজন মানুষ মারা গেছে। সুইসাইড করার জন্য পেছন থেকে কেউ না কেউ শেল্টার দেয়। এ আসামি ভিকটিমকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে। রিমান্ডে নিলে সত্য উদঘাটিত হবে।"
এ সময় অ্যাডভোকেট আবু সায়েম বলেন, "দেখেন, আজ ভিকটিমের মা-বাবা কেউ কোর্টে আসেনি। তারা তাদের মেয়ের চরিত্র সম্পর্কে জানেন।"
আসামিপক্ষের এমন বক্তব্যে আপত্তি তোলেন প্রসিকিউটর শামছুদ্দোহা সুমন।
এ সময় বিচারক বলেন, "ভিকটিমের বিচার করছি না।"
শুনানি শেষে বিচারক সুদীপ চক্রবর্তীকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।