১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মেট্রো স্টেশন ভাঙচুর: বিএনপির রফিকসহ পাঁচজন রিমান্ডে

“প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে আসামিদের সম্পৃক্ততা মিলেছে। নাশকতার সঙ্গে তাদের যোগসূত্র আছে। গ্রেপ্তারের পর পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় তদন্তের স্বার্থে তাদের রিমান্ড প্রয়োজন”, আদালতে বলেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মেট্রো স্টেশন ভাঙচুর: বিএনপির রফিকসহ পাঁচজন রিমান্ডে
আদালতে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম।

আদালত প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Jul 2024, 10:49 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:06 AM

ঢাকার মিরপুরের কাজীপাড়া মেট্রোরেল স্টেশন ভাঙচুরের মামলায় বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলামসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে শুক্রবার ঢাকা মহানগর হাকিম আরোবিয়া খানম তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অন্য আসামিরা হলেন- স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সাদ মোর্শেদ ওরফে পাপ্পা সিকদার, কাফরুল থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আরিফুল হোসেন, কাফরুল থানা বিএনপির সহ-সভাপতি কেএম আরিফুল কবির, কাফরুল থানার ৯৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কবীর হোসেন মিল্টন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বলেন, তাদের ১০ দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক সিকদার মহিদুল আলম। শুনানি নিয়ে বিচারিক পাঁচ দিন মঞ্জুর করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা মহিদুল আলম আদালতকে বলেন, সরকারবিরোধী বিভিন্ন দলের নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে লাঠি-সোঁটা, রড, হাতুড়ি দিয়ে কাজীপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালানো হয়। মেট্রোরেলের মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম লুট করা হয়। স্টেশনে অগ্নিসংযোগ করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।

“প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে আসামিদের সম্পৃক্ততা মিলেছে। নাশকতার সঙ্গে তাদের যোগসূত্র আছে। গ্রেপ্তারের পর পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় তদন্তের স্বার্থে তাদের রিমান্ড প্রয়োজন।”

অপরদিকে বিএনপি নেতা রফিকুলের পক্ষে রিমান্ড বাতিল চেলে জামিন চান আইনজীবী সৈয়দ মো. জয়নুল আবেদীন মেজবাহ্।

শুনানিতে এ আইনজীবী বলেন, “রফিকুল ইসলাম পিজি হাসপাতালের (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল) একজন দক্ষ ডাক্তার। তার জন্য হাজারো রোগী অপেক্ষায় আছেন। তাকে যদি আটক রাখা হয়, তাহলে রোগীরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবেন।

“ডাক্তার রফিক সমাজের এমন এক পর্যায়ে অবস্থান করেন, তার পক্ষে কখনই সম্ভব নয়, এসব নাকশতার সঙ্গে জড়িত হওয়া।”

তদন্ত কর্মকর্তা এরপর বলেন, “আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তিনি একজন ডাক্তার। কিন্তু মহামান্য আদালত, ‘ফরোয়ার্ডিংয়ে’ দেখবেন লেখা আছে, তিনি বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক।”

এ সময় রফিকুলের আইনজীবী বলেন, “এটা আমরা তো আগেই স্বীকৃতি দিয়েছি। আমরা আগেই বলেছি একজন শিক্ষক ও ডাক্তার হিসেবে তার রাজনীতি করার অধিকার আছে।”

প্রায় ৪০ মিনিট শুনানির পর জামিন নাকচ করে আসামিদের রিমান্ডের আদেশ দেন বিচারক।