Published : 11 Dec 2025, 11:14 PM
‘সচিবালয় ভাতা’ চালুর দাবিতে দ্বিতীয় দিনের আন্দোলন থেকে ১১ জনকে আটকের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে তাদের হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি জানান পুলিশের রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মো. মাসুদ আলম।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবির ও সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহীন গোলাম রাব্বানীও রয়েছেন। তবে প্রাথমিকভাবে বাকিদের নাম-পরিচায় জানা যায়নি।
সচিবালয়ের মতো কেপিআইভুক্ত স্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ আনা হবে বলে জানান উপ কমিশনার মাসুদ আলম।
এদিকে পুলিশের যুগ্ম কমিশনার সানা শামীনুর রহমান বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা না মেনে সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশৃঙ্খল আচরণ দেখানোয় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
সচিবালয়ে কর্মরত সবার জন্য ২০ শতাংশ ‘সচিবালয় ভাতার’ দাবিতে বুধবার আন্দোলনে নামেন সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এদিন বেলা আড়াইটার পর তারা সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে কার্যত ৬ ঘণ্টা কার্যত অবরুদ্ধ থাকেন উপদেষ্টা।
পরে রাতে সরকারি আদেশ (জিও) জারির ‘আশ্বাস পেয়ে’ রাত সাড়ে ৮টার দিকে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা।
তারা জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার মধ্যে জিও জারির ‘আশ্বাস পেয়ে’ অবস্থান থেকে সরে গেছেন।
কিন্ত বৃহস্পতিবার বেলা ৩ টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় সচিবালয়ে তারা আবারো জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সমাবেশ থেকে আগামী সপ্তাহ থেকে ‘পূর্ণদিবস কর্মবিরতির’ কথাও বলা হয়।
পরে সচিবালয় থেকে প্রাথমিকভাবে ৫ জনকে আটক করে হেফাজতে নেয় পুলিশ, পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ জনে।
অন্তর্বর্তী সরকারের শুরু থেকেই নানা আন্দোলনের মুখে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয় এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে আসছিল পুলিশ। সবশেষ বৃহস্পতিবারও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
এর সাত দিনের মাথায় সচিবালয়ের কর্মীরা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো নিষেধাজ্ঞা ভাঙার পর ‘জড়িতদের’ হেফাজতে নেওয়ার কথা জানালো পুলিশ।