১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ধর্ম অবমাননা’: অপূর্বকে নর্থ সাউথ থেকে ‘স্থায়ী বহিষ্কার’

তার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Oct 2025, 07:27 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:25 PM

কোরআন অবমাননার অভিযোগে কারাগারে যাওয়া অপূর্ব পালকে ‘স্থায়ী বহিষ্কার’ করেছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়—এনএসইউ।

তার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক ফয়জুল্লাহ ওয়াসিফ সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অভিযোগ ওঠা শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

“শৃংঙ্খলা কমিটির এক জরুরি সভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্তও হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ ওই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে।”

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “শনিবার অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে পবিত্র কোরআন অবমাননারত অবস্থায় প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখতে পান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

“এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের পরিবেশ প্রশংসনীয়ভাবে রক্ষা করেছেন।”

অপূর্ব নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি আগেও সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন একই বিভাগের প্রভাষক আসিফ বিন আলী।

কোরআন 'অবমাননার' অভিযোগে করা মামলায় রোববার অপূর্ব পালকে কারাগারে পাঠায় আদালত। 

এ মামলায় বাদী হন ভাটারা থানার এসআই হাসমত আলী। তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই চাঁদ মিয়া। 

শনিবার রাতে কয়েকটি ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ভিডিওতে অপূর্ব পাল কোরআন অবমাননা করেছেন বলে বিভিন্ন পোস্টে অভিযোগ তোলা হয়। ওই শিক্ষার্থীর ফেইসবুক পোস্ট শেয়ার করে তাকে গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয়। 

এর মধ্যে রাত ১টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অপূর্ব পালের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন ক্ষুব্ধ অনেকেই।

খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করে ভাটারা থানা পুলিশ। প্রথমে তাকে আটক করতে জনতার সহায়তা চায় পুলিশ, জনতার তরফেও পুলিশকে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়।

একপর্যায়ে পুলিশ অপূর্বকে আটক করে থানায় নিয়ে আসার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা অপূর্বকে মারধর শুরু করে। জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করলে তারা পুলিশের ওপরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ঘটনাস্থলে বাড়তি পুলিশ সদস্য ডেকে নেওয়া হয়। মারধরের মধ্যেই পৌনে ৩টার দিকে অপূর্বকে হেফাজতে নিতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরে কোরআন 'অবমাননার' অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

আরও পড়ুন

'ধর্ম অবমাননা': নর্থ সাউথের অপূর্ব কারাগারে

'ধর্ম অবমাননা': পিটুনিতে আহত অপূর্বকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিল পুলিশ