১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাষ্ট্রপতিকে কিছুতেই রাখা যাবে না: ফরহাদ মজহার

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা জনগণের দ্বারা ‘নির্বাচিত’ বলে দাবি করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Aug 2024, 10:50 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:17 AM

ছাত্র-জনতার গণ আন্দোলনে সরকার পতনের পর ‘প্রতিবিপ্লব’ ঠেকাতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে কিছুতেই ক্ষমতায় রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও তাত্ত্বিক ফরহাদ মজহার।

সোমবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে ‘গণঅভ্যুত্থান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং গঠনতন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। ‘ভাববৈঠকি’ এ সভার আয়োজন করে।

এর মাধ্যমে প্রায় ১৭ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফরহাদ মজহারের কোনো বক্তৃতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হল।

ফরহাদ মজহার বলেন, “আমরা অবিলম্বে চুপ্পুকে (রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন) বরখাস্ত করার কথা বলছি। তিনি শেখ হাসিনার নিয়োজিত এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রতিনিয়ত তার কথা হয়। তারা পরাজিত হয়েছে। এখন তারা আবার আক্রমণের জন্য তৈরি হচ্ছে। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, কিছুতেই এই প্রেসিডেন্টকে রাখা যাবে না।“

তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা যাদের এডমিনে রেখে গেছেন, তারা বিপদজনক। এরাই কিন্তু এই ফ্যাসিজমের ভিত্তি।“ 

গণ আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদলের পরবর্তী এই সময়ে ‘রেভুলেশনারি কাউন্সিল’ গঠন করা দরকার বলে মনে করেন ফরহাদ মজহার।

তিনি বলেন, রেভুলেশনারি কাউন্সিল আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে। রাষ্ট্রপতি হবে তাদের দ্বারা নির্বাচিত এবং কাউন্সিলের কাছে রাষ্ট্রপতি জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার বিষয়ে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র চালাতে সংবিধান লাগে। ওই লিখিত কাগজই সমস্ত ক্ষমতার কেন্দ্র। বাংলাদেশের সংবিধানে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে একমাত্র ক্ষমতাধর করেছিল। বাংলাদেশে সাংবিধানিকভাবে ফ্যাসিস্ট একনায়কতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত ছিল। আজকে এই সংবিধান সংশোধনের দাবি উঠেছে। 

“গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সংবিধানের দোহাই দেওয়া হয়েছে। অথচ তরুণদের বিপ্লব কিন্তু সংবিধান মেনে হয়নি। সংবিধান ছাড়াও দেশ চলতে পারে। পৃথিবীর সব বিপ্লবের পর এটা হয়েছে। তবে বাংলাদেশকে অবশ্যই নতুনভাবে গঠন করার দরকার আছে। সেজন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।”

সংবিধান সংশোধনের জন্য গণতান্ত্রিক কাউন্সিলের মাধ্যমে জনগণের অভিপ্রায় জানার পরামর্শ দেন তিনি। 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে জনগণের দ্বারা ‘নির্বাচিত’ দাবি করে তিনি বলেন, ”জনগণের অভিপ্রায়েই কিন্তু ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হয়েছেন। এটা পরিষ্কার থাকতে হবে যে, ড. ইউনূস নির্বাচিত। ভোটাভুটি হলে মেজরিটি দ্বারা নির্বাচিত আর মাইনরিটি দ্বারা অনির্বাচিত হতেন। এখন কিন্তু তিনি সকলের দ্বারা নির্বাচিত।” 

ফরহাদ মজহার বলেন, “অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে আমরা গেছি। আমি বার বার বুঝাতে চেষ্টা করেছি, আসলে বাংলাদেশে বড় ধরনের ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটবার শর্ত দীর্ঘকাল ধরে তৈরি ছিল। এই পৃথিবী কাঁপিয়ে দেওয়া এই গণঅভ্যুত্থানের নায়ক তরুণরা। এই গণঅভ্যত্থানে অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা রেখেছে আমাদের মেয়েরা। 

“অনেকে বলেন তত্ত্ব দিয়ে কি বিপ্লব হয়? হ্যাঁ তত্ত্ব দিয়েও বিপ্লব হয়। আমরা তাত্ত্বিক স্বচ্ছতা ছাড়া কখনই এত বড় ঘটনা ঘটাতে পারব না।”