২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

মালয়েশিয়ায় জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা: ৪ প্রবাসী চারদিনের রিমান্ডে

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম মিনহাজুর রহমান এ আদেশ দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Jul 2025, 04:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:20 PM

‘জঙ্গিবাদে জড়িত’ থাকার অভিযোগে বিমানবন্দর থানার মামলায় মালয়েশিয়ার চার প্রবাসীকে জিজ্ঞাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম মিনহাজুর রহমান এ আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনকে শুক্রবার মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তারা হলেন-নজরুল ইসলাম সোহাগ, মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, জাহেদ আহমেদ। এছাড়া মাহফুজকে সোমবার কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক কে. এম. তারিকুল ইসলাম প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিদের পক্ষে এমদাদুল হক (বিজয়) সহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই এসএম বখতিয়ার খালেদ জানিয়েছেন।

গত ৩ জুলাই সোহাগ, রেদোয়ানুল ও জাহেদকে মালয়েশিয়ান পুলিশ দেশে ফের‍ত পাঠায়। পরদিন শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এসে পৌঁছান তারা। এসময় পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট তাদের হেফাজতে নেন। পরে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে হয়। বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়েরের পর তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই চারজনই মামলার এজাহারনামীয় আসামি।

মালয়েশিয়ায় 'সন্ত্রাসবাদে জড়িত' ৩৫ প্রবাসীর বিরুদ্ধে ঢাকায় মামলা

এন্টি টেররিজম ইউনিটের ইনটেলিজেন্স শাখার পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল বাতেন ৫ জুলাই ৩৫ জনকে আসামিকে করে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, “আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। তারা মলয়েশিয়ায় অবস্থান করা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তারা মালয়েশিয়ার আইপি ঠিকানা ব্যবহার করে বাংলাদেশি কতিপয় নাগরিকদের পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগ মাধামে সদস্য সংগ্রহ এবং প্রচার-প্ররোচণা চালিয়ে আসছিল।

“আসামিরা মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে সেদেশের জননিরাপত্তা, জনসাধারণের আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশে কর্যক্রম পরিচালনা করে। পরে গত ২৮ এপ্রিল থেকে ২১ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়ান পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। আসামিরা সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হয়ে আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী স্বেচ্ছায় দেওয়া অনুদানের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করেন। পরে সংগৃহীত অর্থ ই-ওয়ালেট এবং আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তর পরিষেবার মাধ্যমে অন্যান্য দেশে অর্থ প্রেরণ করে। সংগঠনটির সদস্য হিসেবে বছরে ৫০০ রিঙ্গিত চাঁদা দিত।”

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিদের মালয়েশিয়ান পুলিশ পর্যায়ক্রমে নিজ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

“গোয়েন্দা তথ্য বলছে, আসামিরা পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে এসে সন্ত্রাসবাদে জড়িত হয়ে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করে দেশের অখণ্ডতা, সংহতি, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, জননিরাপত্তা, জনসাধারণের কোন অংশে আতঙ্ক সৃষ্টি উদ্দেশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করে যে কোন সময় বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলার সম্ভবনা রয়েছে।"