Published : 06 Oct 2025, 08:45 PM
আওয়ামী লীগের ‘প্রভাবশালী’ নেতা হওয়ায় দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণে মাহবুব উল আলম হানিফের ভূমিকা ছিল দাবি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম বলেছেন, সে কারণেই তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটির’ অভিযোগ আনা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তাজুল।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এ অভিযোগ আমলে নেওয়।
এ মামলার অন্য অপর তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, দলটির জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা।
পরে তাজুল সাংবাদিকদের বলেন, “মাহবুব উল আলম হানিফ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হওয়ার কারণে তাদের কোর কমিটির সদস্য হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটি মিটিংয়ে ডিসিশন মেকিংয়ে তার ভূমিকা রয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধ: হানিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিল ট্রাইব্যুনাল
“বিগত বছরে জুলাই-অগাস্টে গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে নিরস্ত্র নিরীহ ছাত্র জনতাকে হত্যার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে তার ভূমিকা ছিল, তার ইন্ধন ছিল; বিশেষ করে ওবায়দুল কাদের যখন সাংবাদিক সম্মেলন করে ছাত্রদেরকে ঠেকানোর জন্য আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ যথেষ্ঠ বলে মন্তব্য করেছিলেন– এ সমস্ত কাজের সাথে তিনি (হানিফ) সব সময় উপস্থিত থেকে এ কাজগুলোকে ফেসিলিটেট করেছেন। সেই দায়ে তার বিরুদ্ধে কমান্ড রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ আনা হয়েছে।”
প্রধান প্রসিকিউটর জানান, হানিফের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রথমটি হল–ওবায়দুল কাদের যে বৈঠকে ‘আন্দোলনকারীদের দমনের জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ঠ’ বলে মন্তব্য করেন, সেই বৈঠকে নিজে উপস্থিত থেকে ওই বক্তব্যের সঙ্গে ‘একমত পোষণ’ করা এবং ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে ভূমিকা’ রাখা।
দ্বিতীয় অভিযোগ হচ্ছে, ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় একটা বৈঠকে ‘ছাত্র জনতাকে হত্যা করার ব্যাপারে সরাসরি নির্দেশ’ দেওয়া এবং ‘ষড়যন্ত্র’ করা।
তৃতীয় অভিযোগ হল, জুলাই-অগাস্টে আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়া শহরে ‘৬ জনকে হত্যা’ করা।
মাহবুব উল আলম হানিফ ‘পলাতক’ জানিয়ে তাজুল বলেন,
“প্রত্যেককে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। কেউ পার পেয়ে যাবেন, কাউকে ইনডেমনিটি দেওয়া হবে, কেউ পালিয়ে থেকে বাঁচার চেষ্টা করবেন–সে ধরনের দুরাশা করে লাভ নেই।”