Published : 20 May 2026, 07:07 PM
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুই হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
বুধবার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন শুনানি শেষে ‘নো অর্ডার’ দেন। এর ফলে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন আদেশই বহাল থাকল।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি শেষে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের যে দুটি মামলায় ১২ মে হাই কোর্ট থেকে জামিন হয়েছিল তা বহাল রয়েছে।
“রাষ্ট্রপক্ষ যখন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে যায়, তখন সরকারপক্ষের সেই পিটিশনে আদালত ‘নো অর্ডার’ দিয়েছে। অর্থাৎ হাই কোর্টের জামিন বহাল আছে।"
তিনি বলেন, “আজ উনার দুটি মামলার আদেশ হয়েছে। এর একটি হল আদাবর থানার হত্যা মামলা আর অপরটি যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলা। যাত্রাবাড়ী হত্যা মামলায় এফআইআরে উনার নাম ছিল না। তবে আদাবরের মামলায় এফআইআরে নাম ছিল। আগের পাঁচটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর গত ৩০ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার এই দুই হত্যা মামলায় খায়রুল হককে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।”
এর আগে গত ১২ মে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ এই দুই হত্যা মামলায় খায়রুল হককে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়। পরে ওই জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ।
এদিকে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া হয়রানির উদ্দেশ্যে বারবার মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং গ্রেপ্তার দেখানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করেন খায়রুল হকের ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক। ওই রিটের শুনানি নিয়ে গত ১৭ মে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।
এর আগে গত ২৮ এপ্রিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতির তিন মামলা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা প্লট জালিয়াতির এক মামলাসহ মোট পাঁচ মামলায় খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ।
২০২৪ সালের ২৪ জুলাই সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা। ওইদিন রাতেই তাকে যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।
২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়, যার ফলে দেশে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায়।
অবসরে যাওয়ার পর ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় তৎকালীন সরকার। এরপর কয়েক দফায় তাকে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৩ অগাস্ট আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।