Published : 26 Jun 2025, 09:29 PM
রুটি ও বিস্কুটের মত নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারে উচ্চ ভ্যাট অব্যাহত রাখায় দরিদ্র মধ্যবিত্ত ও শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হওয়ায় তা পুনর্বিবেচনার দাবি করেছে ইয়ুথ পলিসি নেটওয়ার্ক (ওয়াইপিএন)।
বৃহস্পতিবার ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা ও ভ্যাট’ শীর্ষক সেমিনারে প্লাটফর্মটি এ বিষয়ক একটি গবেষণার ফলও তুলে ধরে।
খাবারে ভ্যাট থাকাকে ’বৈষম্যমূলক’ করনীতি হিসেবে তুলে ধরে সেমিনারে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এমন করনীতি দরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
এমন বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর ভ্যাট আরোপ করা উচিত কি না তা নিয়ে একটি মৌলিক বিতর্ক সবসময়ই থাকবে।
তবে করনীতি প্রণয়নের জটিলতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার শর্ত বিশেষ করে ২০২৬ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়।
সহজে রাজস্ব আদায়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর আরোপ একটি 'বদভ্যাস' হতে পারে মন্তব্য করে আগামীতে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মত দেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকার যখন বুঝতে পেরেছিল ‘এটি দরিদ্র মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে’ তখন রুটি-বিস্কুটের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশে কমিয়ে আনা হয়েছিল।
ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধে ইয়ুথ পলিসি নেটওয়ার্কের হেড অব রিসার্চ কে এম ইমরুল হাসান বলেন, তাদের জরিপে নিম্ন আয়ের (১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা মাসিক আয়) মানুষের মধ্যে ৬০ শতাংশ সকালের খাবার বাদ দেন এবং সাড়ে ৩ শতাংশ দুপুর বা বিকালের খাবারও বাদ দিতে বাধ্য হন। ৮৮ শতাংশ নিম্ন আয়ের মানুষ প্রতিদিন কোনো না কোনোভাবে রুটি-বিস্কুট গ্রহণ করেন, যা তাদের জন্য ভাতের সস্তা বিকল্প।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ১৫ শতাংশ মনে করেন, এই ভ্যাট আসলে অনেক বেশি, যোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, “ভ্যাটের কারণে হয় বিস্কুট ও পাউরুটির আকার ছোট হয়ে যাচ্ছে অথবা দাম বেড়ে যাচ্ছে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।”
এমন প্রেক্ষাপটে তিনি অবিলম্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বাংলাদেশ ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শফিকুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, আগে যখন রুটি-বিস্কুটে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছিল, তখন তাদের সংগঠন আন্দোলন করেছিল এবং এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে দুবার বৈঠক করে ভ্যাট সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল।
“যদি শূন্য ভ্যাট সম্ভব না হয়, তবে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ ভ্যাট রাখা উচিত, যা এফবিসিসিআইও সুপারিশ করেছিল।”