Published : 01 Jan 2026, 06:01 PM
সোশাল মিডিয়ার আলোচিত মুখ লায়লা আখতার ফরহাদকে মারধর ও হুমকি-ধামকির মামলায় টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ।
এদিন অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ঠিক ছিল। তবে প্রিন্স মামুন ওমরাহ হজ পালন করতে সৌদি আরব আছেন জানিয়ে সময় আবেদন করেন তার আইনজীবী আশিকুল ইসলাম। তবে লায়লা আদালতে হাজির হন। তিনি প্রিন্স মামুনের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।
তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সরকার সাব্বির হোসেন (ফয়সাল)।
তিনি বলেন, “আসামির বিরুদ্ধে অন্য আদালতে ধর্ষণ মামলা বিচারাধীন। ওই মামলা তুলে নিতে বাসায় প্রবেশ করে বাদীকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে।
“অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করছি।”
একইসঙ্গে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আর্জি জানান এ আইনজীবী।
শুনানি নিয়ে আদালত আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একইসঙ্গে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী সরকার সাব্বির হোসেন (ফয়সাল) জানান, মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৫ মার্চ দিন ঠিক করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, প্রিন্স মামুনের সঙ্গে ফেইসবুকে লায়লার পরিচয় হয়। এরপর থেকে তিনি লায়লার বাসায় যাতায়াত করতেন। গত ১০ মে ভোরে লায়লার বাসায় গিয়ে প্রিন্স মামুন তার বিরুদ্ধে করা তিন মামলা ও একটি জিডি তুলে নিতে হুমকি দেন।
লায়লা মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এসময় টিকটকার মামুন লাইভে গিয়ে লায়লা, তার মাকে ও সন্তানদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে লাইভ বন্ধ করে লায়লাকে মারধর করেন। ছুরি দিয়ে আক্রমণের চেষ্টা করা হলে তা ঠেকাতে গিয়ে লায়লা আহত হন।
এ ঘটনায় ওইদিনই ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন লায়লা।
মামলাটি তদন্ত করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার এসআই আতিকুর রহমান সৈকত।