১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কলিমুল্লাহর জামিননামা দাখিল, ‘কারামুক্তিতে বাধা নেই’

উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এক লাখ টাকার মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে এ জামিননামা গ্রহণ করা হয়।

কলিমুল্লাহর জামিননামা দাখিল, ‘কারামুক্তিতে বাধা নেই’
নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Jul 2026, 06:39 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:44 PM

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর জামিননামা দাখিল করা হয়েছে।

উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এক লাখ টাকার মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে এ জামিননামা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির সোমবার শুনানি শেষে জামিননামা দাখিলের অনুমতি দেন।

কলিমুল্লাহর আইনজীবী মহিমা বাঁধন বলেন, "জামিননামা দাখিল করা হয়েছে। অন্য কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় তার কারামুক্তিতে আর আইনগত কোনো বাধা নেই।"

আরেক আইনজীবী মহসিন রেজা জানান, এক লাখ টাকার মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে গত ১৪ জুন কলিমুল্লাহকে জামিন দেয় হাই কোর্ট। সেই আদেশের ভিত্তিতে সোমবার জামিননামা দাখিল করা হয়েছে।

এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ছিল। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

কারাগার থেকে কলিমুল্লাহকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী জামিনের নথিপত্র কারাগারে পৌঁছালে তাকে মুক্তি দেবে কারা কর্তৃপক্ষ।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এর সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম গত বছরের ১৮ জুন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কলিমুল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম নূর-উন-নবী, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্যসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদার মো. আ. সালাম বাচ্চু এবং এম এম হাবিবুর রহমান।

গত বছরের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই দিনই তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ‘পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে’ রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) উপেক্ষা করে নকশা পরিবর্তন করেন।

মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৩০ কোটি টাকার চুক্তি করা হয়। ঠিকাদারের রানিং বিল থেকে কেটে রাখা নিরাপত্তা জামানত এফডিআর হিসেবে সংরক্ষণ এবং সেই এফডিআরের বিপরীতে ঋণ পেতে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিয়ে সরকারকে প্রায় চার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলে।

এ ছাড়া আইনি সুযোগ না থাকলেও ঠিকাদারকে অগ্রিম বিল পরিশোধ, সেই বিল সমন্বয়ের আগেই ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করা, প্রথম পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নকশা অনুসরণ না করে বিধিবহির্ভূতভাবে দ্বিতীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ এবং সরকারি ক্রয়বিধি অনুসারে দরপত্র মূল্যায়ন না করার অভিযোগও রয়েছে মামলায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ২০১৭ সালের ৩১ মে থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন।

উপাচার্য থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে নিয়মিত উপস্থিত না থেকে ঢাকার লিয়াজোঁ অফিস থেকে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ তুলেছিলেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ। 

এছাড়া স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তিনি অতীতে বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছেন।