১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া শিক্ষার্থীদের রোবটটি দেখলেন প্রধানমন্ত্রী, দিলেন সহায়তার আশ্বাস

“প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তাদের এই ধরনের উদ্ভাবন দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া শিক্ষার্থীদের রোবটটি দেখলেন প্রধানমন্ত্রী, দিলেন সহায়তার আশ্বাস
এমআইএসটির শিক্ষার্থীদের তৈরি আন্ডারওয়ার রোবট খুঁটিয়ে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি:পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Aug 2026, 08:33 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক আন্ডার ওয়াটার রোবট প্রতিযোগিতায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশ মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) শিক্ষার্থীরা।

রোববার বিকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে তথ্য দিয়েছেন তার উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা।

তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে আনার জন্য তাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেছেন।

“প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তাদের এই ধরনের উদ্ভাবন দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। একইসাথে তাদের ভবিষ্যৎ গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।”

মেরিন অ্যাডভান্সড টেকনোলজি এডুকেশন আযোজিত আন্তর্জাতিক আন্ডার ওয়াটার রোবট প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর পাইওনিয়ার ক্লাসে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন বাংলাদেশ মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) এর ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত দল ‘MIST MAVIROV’।

গত ২৩-২৯ জুন কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডোরে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৮ দেশের ৮৮টি দল অংশ নেয়।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাংলাদেশের ‘MIST MAVIROV’ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। রানার আপ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তৃতীয় হয়েছে কানাডা।

উপ প্রেস সচিব বলেন, “এমআইএসটির প্রতিনিধি দলটি তাদের উদ্ভাবন করা আন্ডারওয়াটার রোবটটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করে। রোবটের নকশা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে খুঁটিনাটি বিষয় প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চান।

“শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে প্রযুক্তি খাতেই কাজ করার এবং নিজেদের উদ্যোগে নতুন কিছু করার আগ্রহের কথা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন।”

রোবটটির আরও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, বাণিজ্যিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

তিনি বলেছেন, “এমআইএসটি যদি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ গড়ে তুলতে চান, তাহলে সরকারের স্টার্টআপ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।”

সরকারপ্রধান বলেন, “তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাদের গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ উদ্যোগে সরকার সবসময় পাশে থাকবে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার্নিচার ও কসমেটিকসের মতো নতুন রপ্তানি খাত গড়ে তুলে দেশের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে অবদান রাখতে হবে।”

শিক্ষার্থী দলটির উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিতে হলে উদ্ভাবক, গবেষক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে এবং সরকার তাদের পাশে থাকবে। তৈরি পোশাক শিল্প দেশের প্রধান রপ্তানি খাত হলেও এর পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার্নিচার ও কসমেটিকসসহ নতুন সম্ভাবনাময় শিল্পকে শক্তিশালী করে বহুমুখী রপ্তানি অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।”

তিনি বলেন, “সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞদেরও দেশে এসে এই খাতের বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশের প্রতিটি খাতে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।”

এমআইএসটির দলটি ১০ জন শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় সেখানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলাম, এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম মোস্তাফিজুর রহমান।